প্রকাশকাল: 3 অক্টোবর, 2017

গোফওয়ালা উমেদ ॥ ২৬ বছর ধরে যার শখের লালন

জগৎ সংসারের জীবনে মানুষের সাধ বা শখের কোনো অন্ত নেই। স্বাবলম্বী জীবন গড়া থেকে শুরু করে বিত্ত-বৈভবের মালিক হওয়ার পাশাপাশি ক্ষমতাধর চেয়ারে বসার আকাঙ্খা যেমন কাজ করে মানুষের প্রবাহমান জীবনে, ঠিক তেমনি উচ্চাকাঙ্খা না হলেও নিজের চলন-বলন, ধরন আর অবয়বকেই ভিন্নভাবে তুলে ধরতে নিরন্তর চেষ্টা করে থাকেন কোন কোন মানুষ।
ঠিক এমনই এক মানুষ উমেদ আলী (৫৫)- যিনি জীবনে কোনো উচ্চাকাঙ্খা লালন না করলেও দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে ব্যতিক্রমী গোফ রেখে যত্ন করে যাচ্ছেন নিরন্তর। সেই সাথে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন ‘গোফওয়ালা উমেদ’ নামে।
উমেদ আলীর বাড়ি শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের কুঠুরাকান্দা গ্রামে। তিনি স্থানীয় মৃত হাসেন আলী মন্ডলের ছেলে এবং ২ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তানের জনক। সংসারেও রয়েছে হালিমা খাতুন ও ছাহেরা খাতুন নামে ২ স্ত্রী। পেশায় কৃষক হলেও উমেদ আলী ছোট থেকেই চাকচিক্য পছন্দ করতেন। পরিচ্ছন্ন কাপড়-চোপড় পরিধান, বিশেষ করে ঐতিহ্যের নায়েব আলী লুঙ্গি ও বিশেষ ধরনের পাঞ্জাবী তার পছন্দেরই পরিধেয়। মাথার চুল আঁচড়ে সিঁথি রাখা থেকে শুরু করে মাথা-মুখসহ শরীরে সরিষার তৈল ব্যবহারেও অভ্যস্ত তিনি। এরপরও শখের বশে রাখা তার ব্যতিক্রমী গোফ অনেকের মাঝেই কৌতুহলের সৃষ্টি করে। আর কৌতুহলবশতই প্রায় প্রতিদিনই তাকে জিজ্ঞাসিত হতে হয় ওই গোফ নিয়ে। কারণ একসময় বড় ধরনের গোফ রাখার রেওয়াজ দেখা গেলেও এখন আর তা দেখা যায় না বললেই চলে।
এ বিষয়ে কথা হলে উমেদ আলী জানান, গোফের যত্ন নিতে জেল, কালার, কলব দিতে প্রতি সপ্তাহে তার খরচ হয় সাড়ে ৪শ টাকা। কেবল আওয়ামী লীগ কর্মী হওয়ার কারণে এলাকার সংসদ সদস্য, হুইপ আতিউর রহমান আতিকের মাধ্যমে ইতোপূর্বে ৪ হাজার টাকার ভাতা পেলেও আর কারো কাছ থেকেই তাকে উৎসাহব্যঞ্জক ভাতা দেওয়া হয়নি। তার মতে, ওই গোফ রাখার মধ্য দিয়ে তিনি এক সময়ের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকেই লালন করছেন। এজন্য কারো কারো উৎসাহ পেলে তিনি নিজের গোফকে আরও ব্যতিক্রম করে তুলে ধরতে পারবেন।

-রফিকুল ইসলাম আধার, শেরপুর।

Displaying 1 Comments
Have Your Say
  1. Muzammal Haque বলেছেন:

    This news is good…………………..

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!