রাত ১০:২১ | সোমবার | ৯ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী-উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ ময়দান শোলাকিয়া

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ ময়দান। ১৮২৮ সাল থেকে এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ৭ একর আয়তনের এই ঈদগাহ মাঠে মোট ২৬৫টি সারি এবং প্রতি সারিতে প্রায় ৭ শত মুসল্লি দাঁড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে। সেই হিসেবে মাঠে ১ লাখ ৬০ থেকে ৮০ হাজার মানুষ একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের সময় দেখা যায় মাঠে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় চারপাশের খোলা জায়গা, আশপাশের সড়ক, আশেপাশের ঘর বাড়ির উঠানেও নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। সব মিলিয়ে এখানে প্রায় ৩ লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ও বিদেশ থেকে অনেক মুসুল্লির আগমনে এ মাঠের ঈদের জামাতের মর্যাদা অনেক বেড়ে গেছে। এমনকি বহু পর্যটক এই অভূতপূর্ব মহামিলনের সময়টি দেখার দেখার জন্যে শোলাকিয়ায় উপস্থিত হয়ে থাকেন।

img-add

শোলাকিয়া ঈদগাহের ইতিহাস : ইসলামের ঐশী বাণী প্রচারের জন্য সুদূর ইয়েমেন থেকে আগত শোলাকিয়া ‘সাহেব বাড়ির’ পূর্বপুরুষ সুফি সৈয়দ আহমেদ তার নিজস্ব তালুকে ১৮২৮ সালে নরসুন্দা নদীর তীরে ঈদের জামাতের আয়োজন করেন। ওই জামাতে ইমামতী করেন সুফি সৈয়দ আহমেদ নিজেই।

অনেকের মতে, মোনাজাতে তিনি মুসললিদের প্রাচুর্যতা প্রকাশে ‘সোয়া লাখ’ কথাটি ব্যবহার করেন। আরেক মতে, সেদিনের জামাতে ১ লাখ ২৫ হাজার (অর্থাৎ সোয়া লাখ) লোক জমায়েত হয়। ফলে এর নাম হয় ‘সোয়া লাখি’। পরবর্তীতে উচ্চারণের বিবর্তনে শোলাকিয়া নামটি চালু হয়ে যায়।

আবার কেউ কেউ বলেন, মোগল আমলে এখানে অবস্থিত পরগনার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়া লাখ টাকা। উচ্চারণের বিবর্তনে সোয়া লাখ থেকে সোয়ালাখিয়া সেখান থেকে শোলাকিয়া। পরবর্তিতে ১৯৫০ সালে বীর ঈশা খাঁর অধঃস্তন বংশধর এবং স্থানীয় হয়বতনগর দেওয়ান পরিবারের অন্যতম দেওয়ান মান্নান দাদ খানের বদান্যতায় এ মাঠের কলেবর বৃদ্ধি পায় এবং এবং এর পরিধি বিস্তৃতি লাভ করে।

কিভাবে শোলাকিয়ায় যাবেন : শোলাকিয়া যেতে চাইলে আপনাকে যে কোন উপায়ে প্রথমে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে আসতে হবে। ঢাকা থেকে আসতে চাইলে ট্রেনে অথবা বাসে করে কিশোরগঞ্জ আসতে পারবেন। ঢাকার কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশান থেকে সকাল ৭ টা ১৫ মিনিটে এগারোসিন্ধুর ট্রেনে উঠলে ১১ টার মধ্যে কিশোরগঞ্জ পৌঁছে যাবেন। ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ ট্রেনের টিকেট কাটতে শ্রেনী ভেদে ১২৫ টাকা থেকে ২৫০ টাকা লাগে। কিশোরগঞ্জ রেল স্টেশনে নেমে ২৫ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে সহজেই চলে যেতে পারবেন শোলাকিয়া ময়দানে।
আর বাসে করে আসতে চাইলে ঢাকার মহাখালী বা গোলাপবাগ বাস স্ট্যান্ড থেকে কিশোরগঞ্জ গামী যেকোন বাসে করে কিশোরগঞ্জের গাইটাল বাসস্টপে চলে আসুন। এরপর ৪০টাকা রিক্সা ভাড়া বা লোকাল ইজিবাইকে ১০টাকা ভাড়ায় চলে আসুন শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে।

ঈদে স্পেশাল সার্ভিস : ঈদের জামাত পড়তে চাইলে আপনি যদি দূর থেকে আসেন তাহলে আপনার উচিৎ হবে আগের দিনই চলে আসা। এছাড়া ঈদের জামাতের জন্যে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে স্পেশাল ট্রেন সার্ভিস চালু থাকে। ঈদের দিন খুব সকালে স্পেশাল ট্রেন দুটি কিশোরগঞ্জ এর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। একসাথে অনেকজন মিলে আসলে বাস কিংবা কোন প্রাইভেট গাড়ি রিজার্ভ করেও চলে আসতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন এবং খাবেন : রাতে থাকতে চাইলে কিশোরগঞ্জ সদরের স্টেশন রোড এলাকায় রিভার ভিউ, গাংচিল, নিরালা, উজানভাটি, ক্যাসেল সালাম নামে বেশ কিছু ভাল মানের আবাসিক হোটেল রয়েছ। এছাড়া অনুমতি সাপেক্ষে জেলা সদরের সরকারি ডাক-বাংলোতে থাকতে পারবেন। কিশোরগঞ্জ শহরে ধানসিঁড়ি, দারুচিনি, গাংচিল, ইস্টিকুটুম, তাজ, মাছরাঙ্গা ইত্যাদি রেস্টুরেন্টে পছন্দের খাবার পাবেন।

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» শ্রীবরদী সিআইজি মৎস্যচাষীদের মাঝে জাল বিতরণ

» নকলায় আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালিত

» ঝিনাইগাতীতে বেগম রোকেয়া দিবস পালিত

» শেরপুরে বেগম রোকেয়ার ১৩১তম জন্মদিন উপলক্ষে মহিলা পরিষদের আলোচনা সভা

» শেরপুরে বসুন্ধরা সিমেন্টের রিটেইলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত

» আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ৪ বছর নিষিদ্ধ রাশিয়া

» শ্রীলংকাকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতল বাংলাদেশ

» ‘সম্মেলনের আগে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই’

» শুধু আইন করে নারী নির্যাতন বন্ধ হবে না : প্রধানমন্ত্রী

» শ্রীবরদীতে পুলিশের বিশেষ শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত

» শ্রীবরদীতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালিত

» শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে জ্ঞানার্জনে, লাশ হতে নয়: রাষ্ট্রপতি

» শেরপুরে পদ্মা ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ঋণগ্রহীতাদের মানববন্ধন

» শেরপুরে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভ সমাবেশ

» শেরপুরে দুর্নীতিবিরোধী দিবসে র‌্যালি, মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  রাত ১০:২১ | সোমবার | ৯ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী-উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ ময়দান শোলাকিয়া

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ ময়দান। ১৮২৮ সাল থেকে এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ৭ একর আয়তনের এই ঈদগাহ মাঠে মোট ২৬৫টি সারি এবং প্রতি সারিতে প্রায় ৭ শত মুসল্লি দাঁড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে। সেই হিসেবে মাঠে ১ লাখ ৬০ থেকে ৮০ হাজার মানুষ একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের সময় দেখা যায় মাঠে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় চারপাশের খোলা জায়গা, আশপাশের সড়ক, আশেপাশের ঘর বাড়ির উঠানেও নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। সব মিলিয়ে এখানে প্রায় ৩ লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ও বিদেশ থেকে অনেক মুসুল্লির আগমনে এ মাঠের ঈদের জামাতের মর্যাদা অনেক বেড়ে গেছে। এমনকি বহু পর্যটক এই অভূতপূর্ব মহামিলনের সময়টি দেখার দেখার জন্যে শোলাকিয়ায় উপস্থিত হয়ে থাকেন।

img-add

শোলাকিয়া ঈদগাহের ইতিহাস : ইসলামের ঐশী বাণী প্রচারের জন্য সুদূর ইয়েমেন থেকে আগত শোলাকিয়া ‘সাহেব বাড়ির’ পূর্বপুরুষ সুফি সৈয়দ আহমেদ তার নিজস্ব তালুকে ১৮২৮ সালে নরসুন্দা নদীর তীরে ঈদের জামাতের আয়োজন করেন। ওই জামাতে ইমামতী করেন সুফি সৈয়দ আহমেদ নিজেই।

অনেকের মতে, মোনাজাতে তিনি মুসললিদের প্রাচুর্যতা প্রকাশে ‘সোয়া লাখ’ কথাটি ব্যবহার করেন। আরেক মতে, সেদিনের জামাতে ১ লাখ ২৫ হাজার (অর্থাৎ সোয়া লাখ) লোক জমায়েত হয়। ফলে এর নাম হয় ‘সোয়া লাখি’। পরবর্তীতে উচ্চারণের বিবর্তনে শোলাকিয়া নামটি চালু হয়ে যায়।

আবার কেউ কেউ বলেন, মোগল আমলে এখানে অবস্থিত পরগনার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়া লাখ টাকা। উচ্চারণের বিবর্তনে সোয়া লাখ থেকে সোয়ালাখিয়া সেখান থেকে শোলাকিয়া। পরবর্তিতে ১৯৫০ সালে বীর ঈশা খাঁর অধঃস্তন বংশধর এবং স্থানীয় হয়বতনগর দেওয়ান পরিবারের অন্যতম দেওয়ান মান্নান দাদ খানের বদান্যতায় এ মাঠের কলেবর বৃদ্ধি পায় এবং এবং এর পরিধি বিস্তৃতি লাভ করে।

কিভাবে শোলাকিয়ায় যাবেন : শোলাকিয়া যেতে চাইলে আপনাকে যে কোন উপায়ে প্রথমে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে আসতে হবে। ঢাকা থেকে আসতে চাইলে ট্রেনে অথবা বাসে করে কিশোরগঞ্জ আসতে পারবেন। ঢাকার কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশান থেকে সকাল ৭ টা ১৫ মিনিটে এগারোসিন্ধুর ট্রেনে উঠলে ১১ টার মধ্যে কিশোরগঞ্জ পৌঁছে যাবেন। ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ ট্রেনের টিকেট কাটতে শ্রেনী ভেদে ১২৫ টাকা থেকে ২৫০ টাকা লাগে। কিশোরগঞ্জ রেল স্টেশনে নেমে ২৫ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে সহজেই চলে যেতে পারবেন শোলাকিয়া ময়দানে।
আর বাসে করে আসতে চাইলে ঢাকার মহাখালী বা গোলাপবাগ বাস স্ট্যান্ড থেকে কিশোরগঞ্জ গামী যেকোন বাসে করে কিশোরগঞ্জের গাইটাল বাসস্টপে চলে আসুন। এরপর ৪০টাকা রিক্সা ভাড়া বা লোকাল ইজিবাইকে ১০টাকা ভাড়ায় চলে আসুন শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে।

ঈদে স্পেশাল সার্ভিস : ঈদের জামাত পড়তে চাইলে আপনি যদি দূর থেকে আসেন তাহলে আপনার উচিৎ হবে আগের দিনই চলে আসা। এছাড়া ঈদের জামাতের জন্যে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে স্পেশাল ট্রেন সার্ভিস চালু থাকে। ঈদের দিন খুব সকালে স্পেশাল ট্রেন দুটি কিশোরগঞ্জ এর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। একসাথে অনেকজন মিলে আসলে বাস কিংবা কোন প্রাইভেট গাড়ি রিজার্ভ করেও চলে আসতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন এবং খাবেন : রাতে থাকতে চাইলে কিশোরগঞ্জ সদরের স্টেশন রোড এলাকায় রিভার ভিউ, গাংচিল, নিরালা, উজানভাটি, ক্যাসেল সালাম নামে বেশ কিছু ভাল মানের আবাসিক হোটেল রয়েছ। এছাড়া অনুমতি সাপেক্ষে জেলা সদরের সরকারি ডাক-বাংলোতে থাকতে পারবেন। কিশোরগঞ্জ শহরে ধানসিঁড়ি, দারুচিনি, গাংচিল, ইস্টিকুটুম, তাজ, মাছরাঙ্গা ইত্যাদি রেস্টুরেন্টে পছন্দের খাবার পাবেন।

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!