রাত ৯:০৪ | শনিবার | ৮ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনা ভাইরাস ও আমার অসুস্থ্যতা; কিছু কথা : ডাঃ মোবারক হোসেন

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে সর্বপ্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয়। তার আগে চীন, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যাপক আকারে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়। চীন ও ইতালি থেকে বাংলাদেশী প্রবাসীগণ দেশে ফেরত আসতে থাকে। বিদেশফেরত যাত্রীদের আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে ১৪ দিন হোম কোয়ারিন্টিনে রাখা সম্ভব না হওয়ায়, তাদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে সুবাদে আমাদের শেরপুরেও অনেক বিদেশফেরত যাত্রী আসে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়, বিদেশফেরত যাত্রীদের হোম কোয়ারিন্টিন নিশ্চিত করতে। শুরু হয় দৌড়-ঝাঁপ। যারা বিদেশ থেকে এসেছে, তাদের খুঁজে বের করা, তাদের তালিকা তৈরী করা, তাদের হোম কোয়ারিন্টিন নিশ্চিত করা। প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে শহর থেকে গ্রাম, গ্রাম থেকে বাড়ি-বাড়ি ছুটে যাই হোম কোয়ারিন্টিন নিশ্চিত করতে। আর প্রতিদিনের রিপোর্ট তৈরী করি, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করি, মিডিয়া কর্মী ভাইদের আপডেট দেই। ইতিমধ্যে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে করোনা সংক্রমণের মাত্রা বাড়তে থাকে। ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রচুর মানুষ শেরপুরে চলে আসে এবং তারা এলাকায় এসে সামাজের মানুষের সাথে মিশতে থাকে। শুরু হয় নতুন চ্যালেঞ্জ। বাড়তে থাকে সামাজিক সংক্রমণের ঝুঁকি। যেহেতু কোভিড-১৯ একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যধি, তাই সামাজিক/ শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা অতি জরুরী হয়ে পড়ে। পোস্টার লাগিয়ে, লিফলেট বিলি করে, মাইকিং করে মানুষকে সচেতন করতে থাকি। মানুষ কিছুটা সচেতন হয়, কিন্তু তা কাঙ্খিত মাত্রায় ছিল না। এমনকি, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর বহিঃর্বিভাগে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা দূরূহ হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায়, সাধারণ/ছোটখাটো সমস্যা নিয়ে মানুষকে হাসপাতাল বহিঃর্বিভাগে আসতে নিরুৎসাহিত করি এবং ঘরে থাকতে পরামর্শ দেই। বিকল্প সমাধান হিসাবে মোবাইল ফোনে চিকিৎসা সেবা/ পরামর্শ নেওয়ার জন্য আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ফেসবুকের মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দেই। শুরু হয় ফোনকলে চিকিৎসা পরামর্শ। প্রতিদিন গড়ে ১৫০-২০০টি করে ফোন আসতে থাক এবং দিন দিন এর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফেসবুকের কল্যাণে শেরপুরের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা এমনকি বিদেশ থেকেও ফোন আসতে থাকে। এছাড়া, উর্ধ্বতন/অধঃস্তন কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের সাথে কথা বলা, প্রশাসনের কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের সাথে কথা বলা, সাংবাদিক ভাইদের সাথে কথা বলা এবং যেহেতু আমি এখানে স্থানীয় কর্মকর্তা- সব মিলিয়ে আমার উপর প্রত্যাশা, চাপ, দায়িত্ব এবং কাজের লোড উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে।

img-add

গত ১১ মার্চ/২০২০ তারিখে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শেরপুর সদর হিসেবে যোগদান করার পর করোনা সংকটকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করি। নিজ উপজেলার কাজের পাশাপাশি সিভিল সার্জন ডাঃ একেএম আনওয়ারুর রউফ স্যারের সাথে সমন্বয় করে মূলতঃ পুরো জেলার করোনা সমস্যা নিয়ে কাজ করতে থাকি। সামাজিক সংক্রমণ (social contamination) হচ্ছে কিনা তা বুঝার জন্য কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, রোগী সনাক্ত হলে তাদের চিকিৎসার বিষয়টিও সামনে আসে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে উপজেলাভিত্তিক কোভিড-১৯ সনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ ও রোগী আইসোলেশনের জন্য হাসপাতাল প্রস্তুত করতে বলা হয়। সে মোতাবেক নমুনা সংগ্রহ ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সকল চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রস্তুত করা হয় ১৫০ শয্যার পাঁচ উপজেলায় পাঁচটি আইসোলেশন ওয়ার্ড। ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে কোভিড-১৯ পরীক্ষার কাজ শুরু হলে শেরপুরে আমরা নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করি। সামাজিক/শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইজিবাইকসহ সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং জরুরী প্রয়োজন ছাড়া মানুষের বাড়ির বাইরে বের হওয়া নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অতঃপর গত ০৩ এপ্রিল/২০২০ তারিখ থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ শুরু করি। গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আতিউর রহমান আতিক এমপি মহোদয় লছমনপুর এলাকার শাহিনা নামে এক মহিলার করোনা লক্ষ্মণ নিয়ে অসুস্থ্যতার সন্ধান দিলে আমরা নমুনা সংগ্রহ করতে যাই। কিন্তু সেখানে তাকে না পেয়ে তার ছনকান্দা মধ্যবয়রা তার স্বামীর বাড়িতে এসে নমুনা সংগ্রহ করি। নমুনা সংগ্রহের কাজে আমাকে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন দুইজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) মোতালেব এবং হাফিজুর রহমান, নমুনা বহনকারী নাইমুল ইসলাম (এমএলএসএস) এবং এম্বুল্যান্স ড্রাইভার জহুরুল ইসলাম প্রমুখ। পরদিন ৫ এপ্রিল শাহিনা (৩২) শেরপুরে প্রথম করোনা রোগী হিসেবে সনাক্ত হয়। ওইদিন রাত ১২.৩০টার দিকে সিভিল সার্জন স্যারকে সাথে নিয়ে ইউএনও শেরপুর সদর জনাব ফিরোজ আল মামুন এবং ওসি শেরপুর সদর থানা জনাব আব্দুল্লাহ আল মামুন মহোদয়গণের আন্তরিক সহযোগিতায় শাহিনা আক্তারকে এ্যাম্বুল্যান্সযোগে জেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করি। পরদিন তার সংস্পর্শে আসা আরও ১০ জনের কাছ থেকে (ছনকান্দা ও লছমনপুর উভয়গ্রামের) নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এভাবে প্রতিদিন গ্রামে গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঘুরে নমুনা সংগ্রহ করতে থাকি সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা অবধি। মূলতঃ এ সময়টাতে আমাদের অনেক হাঁটতে হয়েছে, দুপুরে সময়মতো খেতে পারিনি, রাত জেগে অনেক কাজ করতে হয়েছে। অন্যদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে সময়মতো নমুনা পাঠানো, সন্ধ্যার পর প্রতিদিন রিপোর্ট সংগ্রহ করা, নমুনা প্রদানকারীদেরকে তাদের রিপোর্ট জানানো, সাংবাদিক ভাইদের সাথে ফোনে কথা বলা, নতুন করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মানুষদের সন্ধান করা এবং পরদিন তাদের নমুনা সংগ্রহের জন্য তালিকা করা ইত্যাদি আরও অনেক কাজ। এছাড়া চিকিৎসক হিসাবে প্রাইভেট চেম্বারও সচল রাখার কারণে বিকেলে বিশ্রাম নেওয়ার চিন্তাও করতে পারতাম না। কোন কোন দিন সন্ধ্যার পর দুপুরের খাবার খেয়েছি। ফোনে চিকিৎসা পরামর্শ তো চলছিলই। গত ১৭ এপ্রিল শেরপুরে দুই চিকিৎসক, ওসি ঝিনাইগাতী, আমার এ্যাম্বুল্যান্স ড্রাইভারসহ মোট ৬ জন আক্রান্ত হলে আমার মধ্যে একটা টেনশনও কাজ করছিল। রাত ৯টায় চেম্বার শেষ করে বাসায় ফিরে রাতের খাবার খাওয়ার সময় কিছুটা শ্বাসকষ্ট অনুভব করি। রাত ১টার দিকে আমার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে রাত ১.৩০টার দিকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি হই। বিষয়টি সিভিল সার্জন স্যারকে জানালে তিনি আমাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু আমি রাজি হইনি। পরে রাত ৩টার দিকে শ্বাসকষ্ট কিছুটা কমলে আমি বাসায় চলে আসি।
পরদিন সকালে সমস্যা বেড়ে গেলে আবার হাসপাতালে চলে যাই। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাই। তাতে রক্তে ও লিভারে বেশ সমস্যা পাওয়া যায়। ওইদিন আবার কোভিড-১৯ নমুনা পাঠাই। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে আমার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ ছিল। ১৯ এপ্রিল দিন-রাত আমার অবস্থার আরও অবনতি হয়। আমি কথা বলতে পারছিলাম না। সিভিল সার্জন স্যার আমাকে ঢাকা যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং সেজন্য একটি এ্যাম্বুল্যান্স রেডি করেন। তবে, ডাঃ আলমগীর মোস্তাক আহম্মেদ (সিনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন), ডাঃ মোহাম্মদ নাদিম হাসান (সহকারী অধ্যাপক মেডিসিন) এবং মাননীয় হুইপ মহোদয়ের পরামর্শে করোনা রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করি। চিকিৎসকদের পরামর্শ মত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে থাকি। ২০ এপ্রিল আমার অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটে এবং ওইদিন সন্ধ্যায় করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসলে আমি মানসিকভাবে অনেকটাই শক্তি ফিরে পাই। তারপর থেকে আমি আস্তে আস্তে সুস্থ্য হয়ে উঠি। অবশেষে আমার রোগ নির্ণয় হয় ‘Acute hepatitis with hypoglycemia’ যার কারণ হিসেবে মনে করা হয়- অতিরিক্ত পরিশ্রম, অতিমাত্রায় ফোনে কথা বলা, খাওয়া দাওয়া ও ঘুমের অনিয়ম। তবে ১৮-১৯ এপ্রিল দুইদিন আমার অবস্থা সত্যিই অনেক খারাপ ছিল। প্রতি মুহূর্তেই মৃত্যু ভয় তাড়া করে ফিরেছে। কি যে বিভীষিকাময় সময় পার করেছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। মোবাইল ফোনে কথা বললে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতো বিধায় আমার ফোনটি বন্ধ রেখেছিলাম। পরে ফেসবুক খুলে দেখি হাজার হাজার মানুষ আমার জন্য টেনশন করেছেন, দোয়া করেছেন। তাদের মধ্যে অনেককেই আমি চিনি না বা আমাকেও তারা চিনে না। তখন আমার নিজেকে অনেই সৌভাগ্যবান মনে হয়েছে। অথচ এসব মানুষের জন্য আমি কিছুই করিনি।
কৃতজ্ঞতা জানাই তাদের প্রতি যারা আমার এই বিপদের সময় পাশে থেকে পরামর্শ দিয়ে আমাকে সাহস যোগিয়েছেন।বিশেষ করে- মাননীয় হুইপ মহোদয়, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, জেলা বিএমএ ও স্বাচিপের চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ, জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকবৃন্দ, আরএমও জেলা হাসপাতাল, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, কাছে-দূরের চেনা-অচেনা শুভাকাঙ্খী ও শুভানুধ্যায়ীবৃন্দ এবং আরও নাম না জানা অনেকের প্রতি। আরও কৃতজ্ঞতা জানাই আমার স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের প্রতি যারা রাত জেগে আমার সেবা করেছেন। এখন আমার দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। মহান রাব্বুল আলামীন নিজেকে সুস্থ্য রেখে আরও ভালভাবে আমাকে দায়িত্ব পালনের তৌফিক দিন। আমীন।।
আমি পিপিই পরিধান না করার জন্য অনেকেই উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছেন। এজন্য আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। তবে, সামাজিক/ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা যে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা কিন্তু প্রমাণিত হলো। অদ্যাবধি যেসকল চিকিৎসকবৃন্দ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের প্রায় সবাই পিপিই ব্যবহার করেছেন। এর দু’টি কারণ হতে পারে। তার মধ্যে প্রধানতম কারণ হচ্ছে- সঠিক নিয়মে পিপিই খুলতে না পারা। কারন পিপিই খোলার সময় অনেকেই সংক্রমিত হচ্ছেন। দ্বিতীয়ত- মানসম্মত পিপিই ব্যবহার না করার কারণে। পরিশেষে, আবারও সবাইকে সামাজিক/শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
লেখক : উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা, শেরপুর সদর ও করোনা ফোকাল পারসন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, শেরপুর।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» করোনার সঙ্গে লড়তে সহায়ক ‘বাঁধাকপি’

» আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর ছায়াসঙ্গী বঙ্গমাতার অবদান বাঙালির সব সংগ্রামে : তথ্যমন্ত্রী

» ভিভোর পর আইপিএল ছাড়ছে আরও চীনা কোম্পানি

» বিশ্বে আক্রান্ত বেড়ে ১ কোটি ৯২ লাখ, মৃত্যু ৭ লাখ ১৯ হাজার

» ‘জয়তু বঙ্গমাতা’ স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

» মুক্তাগাছায় বাসচাপায় ৭ জন নিহত

» শেরপুরে বঙ্গমাতার জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সেলাই মেশিন বিতরণ

» চুয়াডাঙ্গায় বাসচাপায় ৬ জন নিহত, আহত ৪

» শ্রীবরদীতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছার জন্মদিন পালিত

» ঝিনাইগাতীতে ইয়াবাসহ ২ ব্যবসায়ী গ্রেফতার

» এবার করোনায় আক্রান্ত মাশরাফির বাবা-মা

» নকলায় বঙ্গমাতার জন্মদিনে সেলাই মেশিন বিতরণ ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান

» কেরালায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত উড়োজাহাজটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার

» জাতির পিতার সংগ্রামে প্রেরণা যুগিয়েছেন বঙ্গমাতা: প্রধানমন্ত্রী

» বঙ্গবন্ধুর সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিলেন বঙ্গমাতা : কাদের

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  রাত ৯:০৪ | শনিবার | ৮ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনা ভাইরাস ও আমার অসুস্থ্যতা; কিছু কথা : ডাঃ মোবারক হোসেন

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে সর্বপ্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয়। তার আগে চীন, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যাপক আকারে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়। চীন ও ইতালি থেকে বাংলাদেশী প্রবাসীগণ দেশে ফেরত আসতে থাকে। বিদেশফেরত যাত্রীদের আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে ১৪ দিন হোম কোয়ারিন্টিনে রাখা সম্ভব না হওয়ায়, তাদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে সুবাদে আমাদের শেরপুরেও অনেক বিদেশফেরত যাত্রী আসে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়, বিদেশফেরত যাত্রীদের হোম কোয়ারিন্টিন নিশ্চিত করতে। শুরু হয় দৌড়-ঝাঁপ। যারা বিদেশ থেকে এসেছে, তাদের খুঁজে বের করা, তাদের তালিকা তৈরী করা, তাদের হোম কোয়ারিন্টিন নিশ্চিত করা। প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে শহর থেকে গ্রাম, গ্রাম থেকে বাড়ি-বাড়ি ছুটে যাই হোম কোয়ারিন্টিন নিশ্চিত করতে। আর প্রতিদিনের রিপোর্ট তৈরী করি, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করি, মিডিয়া কর্মী ভাইদের আপডেট দেই। ইতিমধ্যে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে করোনা সংক্রমণের মাত্রা বাড়তে থাকে। ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রচুর মানুষ শেরপুরে চলে আসে এবং তারা এলাকায় এসে সামাজের মানুষের সাথে মিশতে থাকে। শুরু হয় নতুন চ্যালেঞ্জ। বাড়তে থাকে সামাজিক সংক্রমণের ঝুঁকি। যেহেতু কোভিড-১৯ একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যধি, তাই সামাজিক/ শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা অতি জরুরী হয়ে পড়ে। পোস্টার লাগিয়ে, লিফলেট বিলি করে, মাইকিং করে মানুষকে সচেতন করতে থাকি। মানুষ কিছুটা সচেতন হয়, কিন্তু তা কাঙ্খিত মাত্রায় ছিল না। এমনকি, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর বহিঃর্বিভাগে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা দূরূহ হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায়, সাধারণ/ছোটখাটো সমস্যা নিয়ে মানুষকে হাসপাতাল বহিঃর্বিভাগে আসতে নিরুৎসাহিত করি এবং ঘরে থাকতে পরামর্শ দেই। বিকল্প সমাধান হিসাবে মোবাইল ফোনে চিকিৎসা সেবা/ পরামর্শ নেওয়ার জন্য আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ফেসবুকের মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দেই। শুরু হয় ফোনকলে চিকিৎসা পরামর্শ। প্রতিদিন গড়ে ১৫০-২০০টি করে ফোন আসতে থাক এবং দিন দিন এর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফেসবুকের কল্যাণে শেরপুরের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা এমনকি বিদেশ থেকেও ফোন আসতে থাকে। এছাড়া, উর্ধ্বতন/অধঃস্তন কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের সাথে কথা বলা, প্রশাসনের কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের সাথে কথা বলা, সাংবাদিক ভাইদের সাথে কথা বলা এবং যেহেতু আমি এখানে স্থানীয় কর্মকর্তা- সব মিলিয়ে আমার উপর প্রত্যাশা, চাপ, দায়িত্ব এবং কাজের লোড উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে।

img-add

গত ১১ মার্চ/২০২০ তারিখে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শেরপুর সদর হিসেবে যোগদান করার পর করোনা সংকটকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করি। নিজ উপজেলার কাজের পাশাপাশি সিভিল সার্জন ডাঃ একেএম আনওয়ারুর রউফ স্যারের সাথে সমন্বয় করে মূলতঃ পুরো জেলার করোনা সমস্যা নিয়ে কাজ করতে থাকি। সামাজিক সংক্রমণ (social contamination) হচ্ছে কিনা তা বুঝার জন্য কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, রোগী সনাক্ত হলে তাদের চিকিৎসার বিষয়টিও সামনে আসে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে উপজেলাভিত্তিক কোভিড-১৯ সনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ ও রোগী আইসোলেশনের জন্য হাসপাতাল প্রস্তুত করতে বলা হয়। সে মোতাবেক নমুনা সংগ্রহ ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সকল চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রস্তুত করা হয় ১৫০ শয্যার পাঁচ উপজেলায় পাঁচটি আইসোলেশন ওয়ার্ড। ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে কোভিড-১৯ পরীক্ষার কাজ শুরু হলে শেরপুরে আমরা নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করি। সামাজিক/শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইজিবাইকসহ সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং জরুরী প্রয়োজন ছাড়া মানুষের বাড়ির বাইরে বের হওয়া নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অতঃপর গত ০৩ এপ্রিল/২০২০ তারিখ থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ শুরু করি। গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আতিউর রহমান আতিক এমপি মহোদয় লছমনপুর এলাকার শাহিনা নামে এক মহিলার করোনা লক্ষ্মণ নিয়ে অসুস্থ্যতার সন্ধান দিলে আমরা নমুনা সংগ্রহ করতে যাই। কিন্তু সেখানে তাকে না পেয়ে তার ছনকান্দা মধ্যবয়রা তার স্বামীর বাড়িতে এসে নমুনা সংগ্রহ করি। নমুনা সংগ্রহের কাজে আমাকে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন দুইজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) মোতালেব এবং হাফিজুর রহমান, নমুনা বহনকারী নাইমুল ইসলাম (এমএলএসএস) এবং এম্বুল্যান্স ড্রাইভার জহুরুল ইসলাম প্রমুখ। পরদিন ৫ এপ্রিল শাহিনা (৩২) শেরপুরে প্রথম করোনা রোগী হিসেবে সনাক্ত হয়। ওইদিন রাত ১২.৩০টার দিকে সিভিল সার্জন স্যারকে সাথে নিয়ে ইউএনও শেরপুর সদর জনাব ফিরোজ আল মামুন এবং ওসি শেরপুর সদর থানা জনাব আব্দুল্লাহ আল মামুন মহোদয়গণের আন্তরিক সহযোগিতায় শাহিনা আক্তারকে এ্যাম্বুল্যান্সযোগে জেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করি। পরদিন তার সংস্পর্শে আসা আরও ১০ জনের কাছ থেকে (ছনকান্দা ও লছমনপুর উভয়গ্রামের) নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এভাবে প্রতিদিন গ্রামে গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঘুরে নমুনা সংগ্রহ করতে থাকি সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা অবধি। মূলতঃ এ সময়টাতে আমাদের অনেক হাঁটতে হয়েছে, দুপুরে সময়মতো খেতে পারিনি, রাত জেগে অনেক কাজ করতে হয়েছে। অন্যদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে সময়মতো নমুনা পাঠানো, সন্ধ্যার পর প্রতিদিন রিপোর্ট সংগ্রহ করা, নমুনা প্রদানকারীদেরকে তাদের রিপোর্ট জানানো, সাংবাদিক ভাইদের সাথে ফোনে কথা বলা, নতুন করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মানুষদের সন্ধান করা এবং পরদিন তাদের নমুনা সংগ্রহের জন্য তালিকা করা ইত্যাদি আরও অনেক কাজ। এছাড়া চিকিৎসক হিসাবে প্রাইভেট চেম্বারও সচল রাখার কারণে বিকেলে বিশ্রাম নেওয়ার চিন্তাও করতে পারতাম না। কোন কোন দিন সন্ধ্যার পর দুপুরের খাবার খেয়েছি। ফোনে চিকিৎসা পরামর্শ তো চলছিলই। গত ১৭ এপ্রিল শেরপুরে দুই চিকিৎসক, ওসি ঝিনাইগাতী, আমার এ্যাম্বুল্যান্স ড্রাইভারসহ মোট ৬ জন আক্রান্ত হলে আমার মধ্যে একটা টেনশনও কাজ করছিল। রাত ৯টায় চেম্বার শেষ করে বাসায় ফিরে রাতের খাবার খাওয়ার সময় কিছুটা শ্বাসকষ্ট অনুভব করি। রাত ১টার দিকে আমার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে রাত ১.৩০টার দিকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি হই। বিষয়টি সিভিল সার্জন স্যারকে জানালে তিনি আমাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু আমি রাজি হইনি। পরে রাত ৩টার দিকে শ্বাসকষ্ট কিছুটা কমলে আমি বাসায় চলে আসি।
পরদিন সকালে সমস্যা বেড়ে গেলে আবার হাসপাতালে চলে যাই। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাই। তাতে রক্তে ও লিভারে বেশ সমস্যা পাওয়া যায়। ওইদিন আবার কোভিড-১৯ নমুনা পাঠাই। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে আমার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ ছিল। ১৯ এপ্রিল দিন-রাত আমার অবস্থার আরও অবনতি হয়। আমি কথা বলতে পারছিলাম না। সিভিল সার্জন স্যার আমাকে ঢাকা যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং সেজন্য একটি এ্যাম্বুল্যান্স রেডি করেন। তবে, ডাঃ আলমগীর মোস্তাক আহম্মেদ (সিনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন), ডাঃ মোহাম্মদ নাদিম হাসান (সহকারী অধ্যাপক মেডিসিন) এবং মাননীয় হুইপ মহোদয়ের পরামর্শে করোনা রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করি। চিকিৎসকদের পরামর্শ মত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে থাকি। ২০ এপ্রিল আমার অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটে এবং ওইদিন সন্ধ্যায় করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসলে আমি মানসিকভাবে অনেকটাই শক্তি ফিরে পাই। তারপর থেকে আমি আস্তে আস্তে সুস্থ্য হয়ে উঠি। অবশেষে আমার রোগ নির্ণয় হয় ‘Acute hepatitis with hypoglycemia’ যার কারণ হিসেবে মনে করা হয়- অতিরিক্ত পরিশ্রম, অতিমাত্রায় ফোনে কথা বলা, খাওয়া দাওয়া ও ঘুমের অনিয়ম। তবে ১৮-১৯ এপ্রিল দুইদিন আমার অবস্থা সত্যিই অনেক খারাপ ছিল। প্রতি মুহূর্তেই মৃত্যু ভয় তাড়া করে ফিরেছে। কি যে বিভীষিকাময় সময় পার করেছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। মোবাইল ফোনে কথা বললে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতো বিধায় আমার ফোনটি বন্ধ রেখেছিলাম। পরে ফেসবুক খুলে দেখি হাজার হাজার মানুষ আমার জন্য টেনশন করেছেন, দোয়া করেছেন। তাদের মধ্যে অনেককেই আমি চিনি না বা আমাকেও তারা চিনে না। তখন আমার নিজেকে অনেই সৌভাগ্যবান মনে হয়েছে। অথচ এসব মানুষের জন্য আমি কিছুই করিনি।
কৃতজ্ঞতা জানাই তাদের প্রতি যারা আমার এই বিপদের সময় পাশে থেকে পরামর্শ দিয়ে আমাকে সাহস যোগিয়েছেন।বিশেষ করে- মাননীয় হুইপ মহোদয়, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, জেলা বিএমএ ও স্বাচিপের চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ, জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকবৃন্দ, আরএমও জেলা হাসপাতাল, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, কাছে-দূরের চেনা-অচেনা শুভাকাঙ্খী ও শুভানুধ্যায়ীবৃন্দ এবং আরও নাম না জানা অনেকের প্রতি। আরও কৃতজ্ঞতা জানাই আমার স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের প্রতি যারা রাত জেগে আমার সেবা করেছেন। এখন আমার দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। মহান রাব্বুল আলামীন নিজেকে সুস্থ্য রেখে আরও ভালভাবে আমাকে দায়িত্ব পালনের তৌফিক দিন। আমীন।।
আমি পিপিই পরিধান না করার জন্য অনেকেই উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছেন। এজন্য আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। তবে, সামাজিক/ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা যে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা কিন্তু প্রমাণিত হলো। অদ্যাবধি যেসকল চিকিৎসকবৃন্দ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের প্রায় সবাই পিপিই ব্যবহার করেছেন। এর দু’টি কারণ হতে পারে। তার মধ্যে প্রধানতম কারণ হচ্ছে- সঠিক নিয়মে পিপিই খুলতে না পারা। কারন পিপিই খোলার সময় অনেকেই সংক্রমিত হচ্ছেন। দ্বিতীয়ত- মানসম্মত পিপিই ব্যবহার না করার কারণে। পরিশেষে, আবারও সবাইকে সামাজিক/শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
লেখক : উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা, শেরপুর সদর ও করোনা ফোকাল পারসন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, শেরপুর।

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!