প্রকাশকাল: 1 জানুয়ারী, 2017

এমপি লিটনকে হত্যার ঘটনায় সুন্দরগঞ্জে উত্তেজনা, দোকানে আগুন

liton-mpগাইবান্ধা সংবাদদাতা : গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে সুন্দরগঞ্জ ও বামনডাঙ্গায়। তাকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বামনডাঙ্গায় জামায়াত সমর্থক এক ব্যক্তির দুটি ওষুধের দোকানে আগুন দিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত লিটন পরে রংপুর মেডিকেলে মারা যান। মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লিটনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সুন্দরগঞ্জে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। দলীয় নেতা-কর্মীরা হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। উপজেলা সদরসহ তার গ্রামের বাড়ি শাহবাজ ও সংলগ্ন বামনডাঙ্গা এলাকায় দোকানপাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উত্তেজিত নেতাকর্মীরা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে স্লোগান দিতে শুরু করে। এ সময় তারা বামানডাঙ্গা বাজারে জামায়াত সমর্থক আব্দুল গোফ্ফারের দুটি ওষুধের দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আহমেদ জানান, জঙ্গিবাদ ও জামায়াত-শিবির বিরোধী অবস্থান নেয়ায় এমপি লিটন একটি মহলের রোষানলে পড়েছিলেন। তারাই লিটনকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা ও গাইবান্ধা পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন বলেন, ‘সুন্দরগঞ্জের রাজনীতিতে মৌলবাদী চক্রের ধংসযজ্ঞের রাজনীতি মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে লিটনের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। সেই কারণেই আততায়ীরা তাকে টার্গেট করে হত্যা করেছে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক জানান, লিটনের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপির নেতৃত্বে একটি দল রোববার সুন্দরগঞ্জে আসছে।
এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘটনাস্থলে দুটি গুলির খোসা পাওয়া গেছে। বিস্তারিত তদন্ত করে জানানো যাবে।’
উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যায় তিন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে সাংসদ লিটনের বাড়িতে এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় লিটনকে রংপুর মেডিকেলে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!