রাত ২:৩৫ | বৃহস্পতিবার | ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কারের খড়গে শেরপুরের ৯ আ’লীগ নেতা!

শ্যামলবাংলা ডেস্ক ॥ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় এবার বহিস্কারের খড়গে রয়েছেন ৩ উপজেলা চেয়ারম্যানসহ শেরপুরের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৯ নেতা। তারা হচ্ছেন নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবু, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সরকার গোলাম ফারুক, নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ্ মোঃ বোরহান উদ্দিন, শ্রীবরদী উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এডিএম শহিদুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল মতিন এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হামিদ সোহাগ। এছাড়া ঝিনাইগাতী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ ও শ্রীবরদী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম জুয়েলও ওই শাস্তির আওতায় পড়তে পারেন।
দলীয় সূত্র জানায়, আগামী ২০ জুলাই দলটির সম্পাদকম-লীর সভায় তাদের সাময়িক বহিষ্কার ও কারণ দর্শানোর দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হতে পারে। ওই সভায় সিদ্ধান্তের পর বহিষ্কৃতদের কয়েক ধাপে চিঠি দেয়া হবে। একই সঙ্গে কেন তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চাওয়া হবে। এছাড়া সহযোগী সংগঠনের যেসব নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন তাদের শাস্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠন নিজস্ব গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে। এর আগে গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলটির উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় ওইসব নেতাদের সাময়িক বহিষ্কার ও শোকজের সিদ্ধান্ত হয়।দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে গেল নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন এবং ওইসব প্রার্থীদের সহায়তা করেছিলেন এমন নেতাদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই তালিকায় প্রায় ২ শতাধিক আওয়ামী লীগ ও শতাধিক সহযোগী সংগঠনের নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে যেসব মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী নেতা কাজ করেছেন, তাদের কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানোরও সিদ্ধান্ত হয়। শোকজের জবাব যথার্থ না হলে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার হতে পারেন অভিযুক্তরা।
জানা যায়, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরুণ শিল্পপতি মোশারফ হোসেনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রাথী হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকছেদুর রহমান লেবু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরকার গোলাম ফারুক। নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী মোকছেদুর রহমান লেবু বিপুল ভোটাধিক্যে নির্বাচিত হওয়ায় পরাজিত হন দলের মনোনীত প্রার্থী মোশারফ হোসেন। শ্রীবরদীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিদায়ী উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন খোকাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এডিএম শহিদুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মতিন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হামিদ সোহাগসহ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল। নির্বাচনে বিপুল ভোটাধিক্যে নির্বাচিত হন বিদ্রোহী প্রার্থী এডিএম শহিদুল ইসলাম নির্বাচিত হওয়ায় দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবি হয়।
একইভাবে নকলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে এবারও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ্ মোঃ বোরহান উদ্দিন। নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী বোরহান বিজয়ী হওয়ায় দলীয় প্রার্থীকে পরাজয় বরণ করতে হয়। এছাড়া ঝিনাইগাতীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইমকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত হলেও বিদ্রোহী ২ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে দলের বিশেষ অংশ। অভিযোগ রয়েছে, ৪টি উপজেলাতেই দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কাজ করেছে দলের একটি প্রভাবশালী অংশ।
উপজেলা নির্বাচনের বিদ্রোহী প্রার্থী সম্পর্কে নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ বলেন, শাহ মোঃ বোরহান কেবল এবারের নির্বাচনেই নয়, ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। আর ওইসময়ই তাকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি রেজ্যুলেশন আকারে জেলা আওয়ামী লীগকেও অবহিত করা হয়েছে। আর শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম লিটন বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনের প্রাক্কালেই শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মতিন ও সদস্য এডিএম শহিদুল ইসলামকে সাময়িক বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তা কার্যকর করতে জেলা আওয়ামী লীগের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হওয়া নেতাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বৃহস্পতিবার রাতে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি জেলা পরিষদের মতো শিথিল হবে বলেই শোনা যাচ্ছিল। সে কারণেই তারা প্রার্থী হয়েছিলেন। এছাড়া তৃণমূলের যথার্থতা নিয়েও তাদের অভিযোগ ছিল।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপি বৃহস্পতিবার রাতে শ্যামলবাংলা২৪ডটকম বলেন, আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার নির্দেশ দলের যেকোন পর্যায়ে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে বাধ্য। কাজেই উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে দল বা দলের প্রধান যে সিদ্ধান্ত দেবেন কালবিলম্ব না করে সেটাই দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। তবে এখনও কেন্দ্রীয় নির্দেশনার কোন পত্র হাতে পাওয়া যায়নি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সহযোগী সংগঠনের যেসব নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছেন তাদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক স্ব-স্ব সংগঠন ব্যবস্থা নেবে।

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» ‘বাল্যবিবাহ মুক্ত ময়মনসিংহ বিভাগ’ বাস্তবায়নে র‌্যালি-মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর ও শপথ গ্রহণ

» মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে : মিলার

» ইমরুল তাণ্ডবে চট্টগ্রামের শুভ সূচনা

» ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে শেরপুরে বাল্যবিবাহ বিরোধী গণস্বাক্ষর ও মানববন্ধন

» শ্রীবরদীতে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে শপথ নিলেন ১০ সহস্রাধিক মানুষ

» নকলায় বাল্যবিবাহ বিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

» বসলো পদ্মা সেতুর ১৮তম স্প্যান, দৃশ্যমান ২ হাজার ৭০০ মিটার

» বঙ্গবন্ধু বিপিএল : উদ্বোধনী ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে চট্টগ্রাম

» ইন্টারকে বিদায় করে দিল মেসিবিহীন বার্সা

» মানবতাবিরোধী অপরাধে টিপু রাজাকারের ফাঁসির রায়

» আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার শুরু

» শেরপুরে বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে মহিলা পরিষদের মানববন্ধন

» এস কে সিনহার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

» ৫ম স্থানে থেকে এসএ গেমস শেষ করলো বাংলাদেশ

» নীলা আলম’র পদ্য ‘ক্ষুধিত প্রাণ’

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  রাত ২:৩৫ | বৃহস্পতিবার | ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কারের খড়গে শেরপুরের ৯ আ’লীগ নেতা!

শ্যামলবাংলা ডেস্ক ॥ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় এবার বহিস্কারের খড়গে রয়েছেন ৩ উপজেলা চেয়ারম্যানসহ শেরপুরের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৯ নেতা। তারা হচ্ছেন নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবু, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সরকার গোলাম ফারুক, নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ্ মোঃ বোরহান উদ্দিন, শ্রীবরদী উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এডিএম শহিদুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল মতিন এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হামিদ সোহাগ। এছাড়া ঝিনাইগাতী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ ও শ্রীবরদী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম জুয়েলও ওই শাস্তির আওতায় পড়তে পারেন।
দলীয় সূত্র জানায়, আগামী ২০ জুলাই দলটির সম্পাদকম-লীর সভায় তাদের সাময়িক বহিষ্কার ও কারণ দর্শানোর দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হতে পারে। ওই সভায় সিদ্ধান্তের পর বহিষ্কৃতদের কয়েক ধাপে চিঠি দেয়া হবে। একই সঙ্গে কেন তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চাওয়া হবে। এছাড়া সহযোগী সংগঠনের যেসব নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন তাদের শাস্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠন নিজস্ব গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে। এর আগে গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলটির উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় ওইসব নেতাদের সাময়িক বহিষ্কার ও শোকজের সিদ্ধান্ত হয়।দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে গেল নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন এবং ওইসব প্রার্থীদের সহায়তা করেছিলেন এমন নেতাদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই তালিকায় প্রায় ২ শতাধিক আওয়ামী লীগ ও শতাধিক সহযোগী সংগঠনের নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে যেসব মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী নেতা কাজ করেছেন, তাদের কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানোরও সিদ্ধান্ত হয়। শোকজের জবাব যথার্থ না হলে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার হতে পারেন অভিযুক্তরা।
জানা যায়, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরুণ শিল্পপতি মোশারফ হোসেনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রাথী হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকছেদুর রহমান লেবু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরকার গোলাম ফারুক। নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী মোকছেদুর রহমান লেবু বিপুল ভোটাধিক্যে নির্বাচিত হওয়ায় পরাজিত হন দলের মনোনীত প্রার্থী মোশারফ হোসেন। শ্রীবরদীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিদায়ী উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন খোকাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এডিএম শহিদুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মতিন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হামিদ সোহাগসহ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল। নির্বাচনে বিপুল ভোটাধিক্যে নির্বাচিত হন বিদ্রোহী প্রার্থী এডিএম শহিদুল ইসলাম নির্বাচিত হওয়ায় দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবি হয়।
একইভাবে নকলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে এবারও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ্ মোঃ বোরহান উদ্দিন। নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী বোরহান বিজয়ী হওয়ায় দলীয় প্রার্থীকে পরাজয় বরণ করতে হয়। এছাড়া ঝিনাইগাতীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইমকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত হলেও বিদ্রোহী ২ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে দলের বিশেষ অংশ। অভিযোগ রয়েছে, ৪টি উপজেলাতেই দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কাজ করেছে দলের একটি প্রভাবশালী অংশ।
উপজেলা নির্বাচনের বিদ্রোহী প্রার্থী সম্পর্কে নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ বলেন, শাহ মোঃ বোরহান কেবল এবারের নির্বাচনেই নয়, ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। আর ওইসময়ই তাকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি রেজ্যুলেশন আকারে জেলা আওয়ামী লীগকেও অবহিত করা হয়েছে। আর শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম লিটন বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনের প্রাক্কালেই শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মতিন ও সদস্য এডিএম শহিদুল ইসলামকে সাময়িক বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তা কার্যকর করতে জেলা আওয়ামী লীগের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হওয়া নেতাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বৃহস্পতিবার রাতে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি জেলা পরিষদের মতো শিথিল হবে বলেই শোনা যাচ্ছিল। সে কারণেই তারা প্রার্থী হয়েছিলেন। এছাড়া তৃণমূলের যথার্থতা নিয়েও তাদের অভিযোগ ছিল।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপি বৃহস্পতিবার রাতে শ্যামলবাংলা২৪ডটকম বলেন, আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার নির্দেশ দলের যেকোন পর্যায়ে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে বাধ্য। কাজেই উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে দল বা দলের প্রধান যে সিদ্ধান্ত দেবেন কালবিলম্ব না করে সেটাই দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। তবে এখনও কেন্দ্রীয় নির্দেশনার কোন পত্র হাতে পাওয়া যায়নি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সহযোগী সংগঠনের যেসব নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছেন তাদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক স্ব-স্ব সংগঠন ব্যবস্থা নেবে।

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!