প্রকাশকাল: 26 জুন, 2017

ঈদ হোক উৎসবমুখর, জাতির ঐক্যের প্রতিক

বর্ষ পরিক্রমায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ‘ঈদুল ফিতর’ আবারও সমাগত। দীর্ঘ ১ মাসের সিয়াম সাধনার পর সমাগত এ ‘ঈদুল ফিতর’কে ঘিরে এখনই সর্বত্র চলছে উৎসবের আমেজ।
শরীয়তের বিধান মোতাবেক যাদের জন্য সাওম বা সিয়ামকে ফরজ করা হয়েছে, সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়ত সহকারে পানাহার, অনাচার ও যৌনাচার থেকে বিরত থাকার মধ্য দিয়েই মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের আশায় তারা সিয়াম পালন করে আসছেন। বস্তুতঃ রোজা রাখার নিয়ম সর্বযুগেই প্রচলিত ছিল। প্রথম নবী হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) পর্যন্ত নবী-রাসূলরা প্রত্যেকেই সিয়াম পালন করেছেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগে ৩ দিন রোজা রাখার বিধান ছিল। পরে রমজানের রোজা ফরজ হলে তা রহিত হয়ে যায়।
বস্তুতঃ রমজানের মূল শিক্ষাই হচ্ছে আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধি। একজন মুসলিম বছরের একটি মাস সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে যে আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নেবেন, তা পরিবার, গোষ্ঠি-সমাজ ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিফলন ঘটাতেও সচেষ্ট থাকতে হবে। আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের দীক্ষায় দীক্ষিত হতে হবে সকলকে। তবেই সিয়াম সাধনার মূল লক্ষ্য অর্জিত হবে।
আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিসহ পরিবার ও সামাজিক পরিমন্ডলের আওতায় সিয়াম সাধনা থেকে বিরত থাকার সংখ্যা খুব একটা বেশি নয়। প্রকাশ্যে পানাহার ও ধূমপান, সেটাও বর্তমান সময়কালে দৃশ্যমান নয় বললেই চলে। কাজেই দীর্ঘ ৩০ দিনের সিয়াম সাধনার পর ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে কে-না চায়? আতর সুবাসিত পরিবেশে নতুন পাজামা-পাঞ্জাবী পড়ে ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি আর হৃদয়ঙ্গমের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় উৎসবটি এক পর্যায়ে পরিণত হয় সার্বজনীন উৎসবে।
দ্রব্যমূল্য আর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকায় এবারের ঈদ ভালই কাটবে বলে ধারণা করছেন অভিজ্ঞ মহল। তারপরও রাজধানী কেন্দ্রিক লাখো লাখো মানুষ যারা নারীর টানে এখনই ঘরমুখি, তারা যানজটের দুর্বিষহ যন্ত্রণা আর স্থল-জলপথের দৈত্য-দানবদের হানার আশঙ্কায় অনেকটাই শঙ্কিত। তারা চায় যানজটমুক্ত পরিবেশ আর নির্বিঘেœ বাড়ি ফিরতে।
তাই সর্ববৃহৎ ওই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির দীক্ষায় দীক্ষিত হয়ে সমাজের বিত্তবানরা দুঃস্থ্য-অসহায় ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াবেন, উগ্র ধর্মান্ধতা পরিহার করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের মাধ্যমে সমৃদ্ধির দিকে অগ্রসর দেশের চাকা সচল রাখতে সচেষ্ট হব। সেইসাথে সকল ক্লেদ-গ্লানি ঝেড়ে-মুছে, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে আর হানাহানি থেকে বিরত হয়ে পরিবার, গোষ্ঠি-সমাজসহ জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত যার যার অবস্থান থেকে একে অপরকে বুকে টেনে নেব। সর্বত্র প্রতিষ্ঠা করব ভ্রাতৃত্ববোধ। সৃষ্টি করব জাতীয় ঐক্যের মেলবন্ধন। সুতরাং এবারের ঈদুল ফিতর হোক উৎসবমুখর ও আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!