প্রকাশকাল: 20 আগস্ট, 2018

ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত ঐতিহাসিক শোলাকিয়া

কিশোরগঞ্জ : দেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদুল আজহার জামাতের জন্য প্রস্তুত। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ও ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি জামাত আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এবারো নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির জন্য ২টি ড্রোন উড়বে শোলাকিয়ার আকাশে। র্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, আরআরএফসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য ছাড়াও মোতায়েন থাকবে দুই প্লাটুন বিজিবি। ঈদের দিন শোলাকিয়া মাঠ ও এর আশপাশে কয়েক স্তুরের নিরাপত্তায় ঈদগাহ ময়দানের বাইরে, ভেতরে ও প্রবেশপথে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। জামাতকে সামনে রেখে শহর এবং আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় বসানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। মাঠে স্থাপন করা হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার। জামাতে অংশ নেয়া কোনো মুসল্লি ঈদগাহে ছাতা, ব্যাগ ও মোটা জায়নামাজ নিয়ে ঢুকতে পারবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের অন্তত কয়েক দফা মেটাল ডিটেক্টরে মুসল্লিদের দেহ তল্লাসি করে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে মাঠের দাগ কাটাসহ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা এবং অজু-পানির সুব্যবস্থা করা হয়েছে। সম্প্রতি শোলাকিয়া ঈগগাহ মাঠ পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী ও পুলিশ সুপর মোঃ মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। এ বছর ১৯১তম ঈদুল আজহার জামাত শুরু হবে সকাল ৯টায়। জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা হিফজুর রহমান খান।
এদিকে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিদের আগমনের সুবিধার্থে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঈদের দিন দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। এর মধ্যে একটি ট্রেন ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে সকাল ৮টায় পৌঁছবে। আর কিশোরগঞ্জ থেকে বেলা ১২টায় ফিরতটি ট্রেনটি ভৈরব পৌছবে দুপুর ২টায়। অপর ট্রেনটি ভোর পৌনে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছবে সকাল ৮টায়। আর জামাত শেষে বেলা ১২টায় কিশোরগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। তবে শোলাকিয়ায় নামাজ আদায়ের জন্য প্রতিবারই জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিগণ ছুটে আসেন। তবে কোরবানীর ব্যস্ততার কারণে ঈদুল আজহার জামাতে ঈদুল ফিতরের তুলনায় মুসল্লির সংখ্যা অনেক কম হয়ে থাকে।
জেলা প্রশাসক ও মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী ঈদ জামাতের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে জানান, ২০১৬ সালে ফিতরের দিন অপ্রত্যাশিত জঙ্গী হামলার বিষয়টি মাথায় রেখে এবার মাঠে অতিরিক্ত বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শোলাকিয়া পরিচিত করেছে কিশোরগঞ্জকে, পরিচিত করেছে সারা দেশকে। মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৮২৮ সালে জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় ৭ একর জমির উপর এ ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন। ওই বছর ঈদের প্রথম জামাতে মুসল্লির সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার অর্থাৎ সোয়া লাখ। এই সোয়া লাখ থেকেই উচ্চারণ বিবর্তনে বর্তমানে ‘শোলাকিয়া’ নামকরণ হয়েছে।

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!