রাত ৪:০৪ | সোমবার | ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২২শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আল কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : কিয়ামতের ভয়াবহ দিন যখন আপনজন ও ধনসম্পদ কোনো কাজে আসবে না, তখন কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কোরআন তেলাওয়াত কর। কারণ কিয়ামতের দিন কোরআন তার তেলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে।’ (মুসলিম)। অন্য হাদিসে রসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন কোরআন তার তেলাওয়াতকারী ও আদেশ-নিষেধ মান্যকারীকে বলবে, আমাকে চিনতে পারছো? আমি সেই কোরআন যে তোমাকে রোজার আদেশ দিয়ে দিনে পিপাসার্ত আর রাতে নামাজে রত রেখেছি। প্রত্যেক ব্যবসায়ীই তার ব্যবসার মাধ্যমে লাভবান হতে চায়। আজ তুমি সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছ। তারপর ওই বান্দার ডান হাতে বাদশাহি, বাম হাতে জান্নাতে বসবাসের পরোয়ানা দেওয়া হবে। মাথায় নূরের তাজ পরানো হবে এবং বলা হবে, কোরআন পড়তে থাকো আর উচ্চ মাকামে উঠতে থাকো।’ (মুসনাদে আহমাদ)।

img-add

মাওলানা মো. উবায়দুল হক সালেহীঃ কোরআন তেলাওয়াত সব ইমানদারের সব সময়ের আমল। তবে রমজান মাসে এর গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ এ মাসেই নাজিল করা হয়েছে মহিমান্বিত গ্রন্থ আল কোরআন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘রমজান মাস, যে মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে।’ (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৫)। সাহাবায়ে কিরাম, তাবেয়িন ও বুজুর্গানে দীন সবাই রমজান মাসে তেলাওয়াতের বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা সবাই রমজানের অধিকাংশ সময় কোরআন তেলাওয়াতে কাটাতেন। তাদের অনেকে দৈনিক এক খতম পর্যন্ত কোরআন তেলাওয়াত করতেন। অনেকে তো দৈনিক দুই খতমও পড়তেন বলে বর্ণিত হয়েছে।
কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত অফুরন্ত। এ সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস রয়েছে। উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ওই ব্যক্তি, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’ (বুখারি)। হজরত আয়শা (রা.) রসুলুল্লাহ (সা.) থেকে ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের জ্ঞানী হবে, কিয়ামতের দিন সে সম্মানিত ফেরেস্তাদের সঙ্গে থাকবে। আর যে কোরআন শেখার চেষ্টা করবে, শিখতে শিখতে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে অর্থাৎ শেখার জন্য সে চেষ্টা করে, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে।’ (বুখারি)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি অক্ষর পড়বে বিনিময়ে তাকে একটি সওয়াব দেওয়া হবে। আর প্রতিটি সওয়াব ১০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে।’ (তিরমিজি)।
তাই কোরআনের বেশি বেশি তেলাওয়াত, হিফজ ও গভীর ধ্যানের মাধ্যমে কোরআন তেলাওয়াত শ্রবণ করা, আর গভীরভাবে চিন্তা করা আমাদের অবশ্যই কর্তব্য। পবিত্র এই মাসে একজন মুমিনের জন্য অন্যান্য নফল ইবাদতের সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বাধিক নেকির আমল হলো তেলাওয়াতে কোরআন। তবে এ কথা স্মরণ রাখতে হবে, কোরআন তেলাওয়াতের এ নেকি পেতে হলে কোরআন সহিভাবে পড়তে হবে। ভুল পড়লে নেকির পরিবর্তে গুনা হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

[সংগৃহিত]

এ সংক্রান্ত আরও খবর

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» শেরপুরের ঐতিহাসিক কাটাখালি যুদ্ধ দিবস আজ

» ঝিনাইগাতীতে এক যুগ ধরে শিকলবন্দি মানসিক ভারসাম্যহীন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক নারী

» শেরপুরে করোনা পরিস্থিতিতে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠিদের বাসা ভাড়ার টাকা দিলেন জেলা প্রশাসক

» করোনার ময়দানে শ্রীবরদীর সাহসী ২ কর্মকর্তা

» স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুরবানির পশুরহাটে ২/৩ জনের বেশী যাবেন না : মসিক মেয়র টিটু

» ফেসবুক-ইউটিউবকে নিয়ম-নীতির মধ্যে আনা প্রয়োজন : তথ্যমন্ত্রী

» করোনায় আরও ৫৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৭৩৮

» সরকার সহনশীলতার পরিচয় দিচ্ছে : কাদের

» অ্যান্ড্রয়েড ১১-এর নতুন কিছু ফিচার

» হার্ট সুস্থ রাখতে যা করবেন

» ‘বার্সায় যা ঘটছে, মেসি অবসরও নিতে পারে!’

» প্রধানমন্ত্রী মোদির লাদাখ সফর যথাস্থানেই আঘাত

» বিশ্বে করোনায় মৃত্যু বেড়ে ৫ লাখ ৩০ হাজার

» শেরপুরে আরও এক স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত : মোট আক্রান্ত ২৫০

» ১৪ দলের সমন্বয়ক হওয়ার খবরটি সঠিক নয় : আমু

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  রাত ৪:০৪ | সোমবার | ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২২শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আল কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : কিয়ামতের ভয়াবহ দিন যখন আপনজন ও ধনসম্পদ কোনো কাজে আসবে না, তখন কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কোরআন তেলাওয়াত কর। কারণ কিয়ামতের দিন কোরআন তার তেলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে।’ (মুসলিম)। অন্য হাদিসে রসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন কোরআন তার তেলাওয়াতকারী ও আদেশ-নিষেধ মান্যকারীকে বলবে, আমাকে চিনতে পারছো? আমি সেই কোরআন যে তোমাকে রোজার আদেশ দিয়ে দিনে পিপাসার্ত আর রাতে নামাজে রত রেখেছি। প্রত্যেক ব্যবসায়ীই তার ব্যবসার মাধ্যমে লাভবান হতে চায়। আজ তুমি সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছ। তারপর ওই বান্দার ডান হাতে বাদশাহি, বাম হাতে জান্নাতে বসবাসের পরোয়ানা দেওয়া হবে। মাথায় নূরের তাজ পরানো হবে এবং বলা হবে, কোরআন পড়তে থাকো আর উচ্চ মাকামে উঠতে থাকো।’ (মুসনাদে আহমাদ)।

img-add

মাওলানা মো. উবায়দুল হক সালেহীঃ কোরআন তেলাওয়াত সব ইমানদারের সব সময়ের আমল। তবে রমজান মাসে এর গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ এ মাসেই নাজিল করা হয়েছে মহিমান্বিত গ্রন্থ আল কোরআন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘রমজান মাস, যে মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে।’ (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৫)। সাহাবায়ে কিরাম, তাবেয়িন ও বুজুর্গানে দীন সবাই রমজান মাসে তেলাওয়াতের বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা সবাই রমজানের অধিকাংশ সময় কোরআন তেলাওয়াতে কাটাতেন। তাদের অনেকে দৈনিক এক খতম পর্যন্ত কোরআন তেলাওয়াত করতেন। অনেকে তো দৈনিক দুই খতমও পড়তেন বলে বর্ণিত হয়েছে।
কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত অফুরন্ত। এ সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস রয়েছে। উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ওই ব্যক্তি, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’ (বুখারি)। হজরত আয়শা (রা.) রসুলুল্লাহ (সা.) থেকে ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের জ্ঞানী হবে, কিয়ামতের দিন সে সম্মানিত ফেরেস্তাদের সঙ্গে থাকবে। আর যে কোরআন শেখার চেষ্টা করবে, শিখতে শিখতে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে অর্থাৎ শেখার জন্য সে চেষ্টা করে, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে।’ (বুখারি)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি অক্ষর পড়বে বিনিময়ে তাকে একটি সওয়াব দেওয়া হবে। আর প্রতিটি সওয়াব ১০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে।’ (তিরমিজি)।
তাই কোরআনের বেশি বেশি তেলাওয়াত, হিফজ ও গভীর ধ্যানের মাধ্যমে কোরআন তেলাওয়াত শ্রবণ করা, আর গভীরভাবে চিন্তা করা আমাদের অবশ্যই কর্তব্য। পবিত্র এই মাসে একজন মুমিনের জন্য অন্যান্য নফল ইবাদতের সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বাধিক নেকির আমল হলো তেলাওয়াতে কোরআন। তবে এ কথা স্মরণ রাখতে হবে, কোরআন তেলাওয়াতের এ নেকি পেতে হলে কোরআন সহিভাবে পড়তে হবে। ভুল পড়লে নেকির পরিবর্তে গুনা হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

[সংগৃহিত]

এ সংক্রান্ত আরও খবর

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!