সকাল ৮:৩৮ | বুধবার | ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব/তবু আমারে দেব না ভুলিতে’

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৩তম প্রয়ান দিবস উপলক্ষে বিশেষ নিবন্ধ  :  মইনুল হোসেন প্লাবন

‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব/তবু আমারে দেব না ভুলিতে’- লিখেছিলেন সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, বিদ্রোহ আর মানবতার বাণী নিয়ে বাঙালি জাতিকে জাগিয়ে তোলা মহাবিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। আসা-যাওয়ার পথের মাঝে বলা তার সে কথা হয়ে উঠেছে চিরসত্য; অনন্তকালের জন্য ঠাঁই করে নিয়েছেন তিনি মানুষের মনে চিরবিদ্রোহী, চিরপ্রেমিক ও অসাম্প্রদায়িক এক মানুষ হিসেবে।

img-add

স্বাধীন বাংলাদেশে কাজী নজরুল ইসলাম অভিষিক্ত হয়েছেন জাতীয় কবির মর্যাদায়। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসন-শোষণবিরোধী মুক্তির আন্দোলন থেকে শুরু করে এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার কবিতা ও গান ছিল অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। আজও তিনি প্রেরণার উৎস জাতির প্রতিটি ক্রান্তিকালে। আজ ১২ ভাদ্র (২৭ আগস্ট) এই বিদ্রোহী, মানবতাবাদী কবির ৪৩তম প্রয়াণ দিবস। তার জীবনকাল ৭৭ বছরের হলেও তিনি সৃষ্টিশীল ছিলেন মাত্র ২৩ বছর। তবে প্রায় ২ যুগের সেই সৃজনশীল সাহিত্যও বাঙালির ভাষা-সংস্কৃতি ও জনজীবনের অতুলনীয় অমূল্য সম্পদ।

১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠে অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার চুরুলিয়ায় যে মানুষটি আবির্ভূত হয়েছিলেন প্রকৃতির ঝোড়ো হাওয়া হয়ে, ঢাকার পিজি হাসপাতালের (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল) কেবিনে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্রে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন তাকে। বিদ্রোহী কবি মহিমান্বিত হন বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে। ‘মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই’- গানের বাণীতে স্পন্দিত তার ওই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করে। জাতি আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে এ ব্যক্তিত্বকে।

সবাইকে চমকে দিয়ে বাংলার সাহিত্যাকাশে নজরুলের অভ্যুদয় শুধু ধূমকেতুর সঙ্গেই তুলনীয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার সম্পর্কে যথার্থই বলেছেন, ‘…আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু,/দুর্দিনের এই দুর্গশিরে/ উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন।’

নজরুলের সাহিত্যকর্মে প্রাধান্য পেয়েছে ভালোবাসা, মুক্তি ও বিদ্রোহ। ধর্মীয় বৈষম্য ও কূপমবিরুদ্ধে তিনি ছিলেন প্রবল উচ্চকিত। ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক লিখলেও তিনি মূলত পরিচিত বিদ্রোহী কবি হিসেবেই। যার লেখনীতে ধ্বনিত হয়েছে এই বাণী- ‘মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত/আমি সেই দিন হব শান্ত/যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না/অত্যাচারীর খড়্‌গ-কৃপাণ ভীম রণভূমে রণিবে না’। তাই আজও তিনি প্রাসঙ্গিক। একদিকে ইসলামী সঙ্গীত তথা গজল, অন্যদিকে শ্যামাসঙ্গীত লিখে তিনি বাঙালি মানসের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে আরও সুগভীর করেছেন। প্রায় ৩ হাজার গান রচনা ও সুর করেছেন তিনি।

জাতীয় কবির ৪৩তম প্রয়াণ দিবসে কবির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। ওপারে ভাল থাকুন কবি। এই দোয়া রইল।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক, শেরপুর।

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» নালিতাবাড়ীতে ভলিবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

» নালিতাবাড়ীতে দিনব্যাপী তথ্য মেলা অনুষ্ঠিত

» প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে বৃত্তি পেয়েছে ৮২ হাজার ৪২২ জন

» মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক আর নেই

» ম্যাচ সেরা হয়েই পাকিস্তানে যাওয়ার ঘোষণা মুশফিকের

» শেরপুরে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

» ঝিনাইগাতীর ৩ ইউনিয়নে বয়স্ক, বিধবা ও অসচ্ছল ভাতাভোগী উন্মুক্ত বাছাই

» কর্মচারীদের ৩ দিনের পূর্ণ কর্মবিরতিতে কমিশনার ও কালেক্টরেট অফিস অচল

» নকলায় সুতি নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান

» পিলখানা ট্রাজেডিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

» পিলখানা হত্যাকাণ্ড দিবস আজ

» দিল্লিতে আজও সিএএবিরোধী বিক্ষোভ, নিহত বেড়ে ৭

» শেরপুরে ছাত্র–শিক্ষক সম্প্রীতি সভা অনুষ্ঠিত

» ইনিংস ব্যবধানে জিতল টাইগাররা

» ছেলেকে ডাবল সেঞ্চুরি উৎসর্গ করলেন মুশফিক

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  সকাল ৮:৩৮ | বুধবার | ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব/তবু আমারে দেব না ভুলিতে’

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৩তম প্রয়ান দিবস উপলক্ষে বিশেষ নিবন্ধ  :  মইনুল হোসেন প্লাবন

‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব/তবু আমারে দেব না ভুলিতে’- লিখেছিলেন সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, বিদ্রোহ আর মানবতার বাণী নিয়ে বাঙালি জাতিকে জাগিয়ে তোলা মহাবিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। আসা-যাওয়ার পথের মাঝে বলা তার সে কথা হয়ে উঠেছে চিরসত্য; অনন্তকালের জন্য ঠাঁই করে নিয়েছেন তিনি মানুষের মনে চিরবিদ্রোহী, চিরপ্রেমিক ও অসাম্প্রদায়িক এক মানুষ হিসেবে।

img-add

স্বাধীন বাংলাদেশে কাজী নজরুল ইসলাম অভিষিক্ত হয়েছেন জাতীয় কবির মর্যাদায়। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসন-শোষণবিরোধী মুক্তির আন্দোলন থেকে শুরু করে এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার কবিতা ও গান ছিল অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। আজও তিনি প্রেরণার উৎস জাতির প্রতিটি ক্রান্তিকালে। আজ ১২ ভাদ্র (২৭ আগস্ট) এই বিদ্রোহী, মানবতাবাদী কবির ৪৩তম প্রয়াণ দিবস। তার জীবনকাল ৭৭ বছরের হলেও তিনি সৃষ্টিশীল ছিলেন মাত্র ২৩ বছর। তবে প্রায় ২ যুগের সেই সৃজনশীল সাহিত্যও বাঙালির ভাষা-সংস্কৃতি ও জনজীবনের অতুলনীয় অমূল্য সম্পদ।

১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠে অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার চুরুলিয়ায় যে মানুষটি আবির্ভূত হয়েছিলেন প্রকৃতির ঝোড়ো হাওয়া হয়ে, ঢাকার পিজি হাসপাতালের (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল) কেবিনে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্রে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন তাকে। বিদ্রোহী কবি মহিমান্বিত হন বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে। ‘মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই’- গানের বাণীতে স্পন্দিত তার ওই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করে। জাতি আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে এ ব্যক্তিত্বকে।

সবাইকে চমকে দিয়ে বাংলার সাহিত্যাকাশে নজরুলের অভ্যুদয় শুধু ধূমকেতুর সঙ্গেই তুলনীয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার সম্পর্কে যথার্থই বলেছেন, ‘…আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু,/দুর্দিনের এই দুর্গশিরে/ উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন।’

নজরুলের সাহিত্যকর্মে প্রাধান্য পেয়েছে ভালোবাসা, মুক্তি ও বিদ্রোহ। ধর্মীয় বৈষম্য ও কূপমবিরুদ্ধে তিনি ছিলেন প্রবল উচ্চকিত। ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক লিখলেও তিনি মূলত পরিচিত বিদ্রোহী কবি হিসেবেই। যার লেখনীতে ধ্বনিত হয়েছে এই বাণী- ‘মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত/আমি সেই দিন হব শান্ত/যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না/অত্যাচারীর খড়্‌গ-কৃপাণ ভীম রণভূমে রণিবে না’। তাই আজও তিনি প্রাসঙ্গিক। একদিকে ইসলামী সঙ্গীত তথা গজল, অন্যদিকে শ্যামাসঙ্গীত লিখে তিনি বাঙালি মানসের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে আরও সুগভীর করেছেন। প্রায় ৩ হাজার গান রচনা ও সুর করেছেন তিনি।

জাতীয় কবির ৪৩তম প্রয়াণ দিবসে কবির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। ওপারে ভাল থাকুন কবি। এই দোয়া রইল।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক, শেরপুর।

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!