রাত ২:৩৮ | মঙ্গলবার | ৪ঠা আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আবদুল হালিম উকিল : পাহাড় সমুদ্র নদী সমর্পিত ঝর্ণা ধারা

উকিল ভাইয়ের সাথে কবে প্রথম পরিচয় বা প্রথম দেখা মনে করতে পারছি না। তবে নালিতাবাড়ীর মানুষ হিসেবে অনেক পূর্বেই দেখা হয়েছে, আলাপ হয়েছে এটাই স্বাভাবিক।
রাজনীতি, রাজপথ থেকে ফুটবলের মাঠ সর্বত্র তার প্রবল উপস্থিতি। সবাই তাকে সহজেই চিনেন। হাই স্কুলে পড়ার সময় আমারা একত্রিত হতাম দক্ষিণ রাণীগাঁও অধ্যাপক মোঃ আবুল কাশেম ভাইয়ের বাড়ীতে।সাত্তার,কাশেম ভাইয়ের ছোট ভাই আমার বন্ধু। আমি, আজাদ, হাফিজুর, মকিম, আফাজ, বুলু যেতাম সাত্তারের বাড়ীতে। রাত্রেও থাকতাম। কাশেম ভাই এর মূল উদ্যোক্তা। সিরিজ দাওয়াতে অংশ নিতে হতো। দুপুরে কাশেম ভাইয়ের বাড়ী,রাত্রে হাবিল দুলাভাইয়ের বাড়ী, পরে অধ্যাপক মকিমের বাড়ী, আফাজের বা ইসমাইলের বাড়ী। আবদুল হামিদ মুক্তা ভাই কাশেম ভাইয়ের বন্ধু, তিনিও অনেক সময় আসতেন।উকিল ভাইও আসতেন। তখনো উকিল ভাইয়ের সাথে দেখা হতো, কথা হতো।
১৯৭৬ সালে ঢাকা কলেজে ভর্তি জন্য আমি জহুরুল হক হলে কাশেম ভাইয়ের রুমে উঠি। একদিন উকিল ভাই নালিতাবাড়ী থেকে কাশেম ভাইয়ের রুমে হাজির হন। শপিং এ বের হবেন, আমাকে বললেন, চলো।আমিও সাথে গাউছিয়া, নিউমার্কেট ঘুরে হলে ফিরে আসলাম। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলে কামরুল ভাইয়ের রুমে, বদিউজজামান বাদশা ভাই এবং পরবর্তীতে আমি ও দৌলত বাসিন্দা। মাঝে-মধ্যে উকিল ভাই আসতেন।
৭৯ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার নির্দেশে আমি, আমার বন্ধু হরিলাল, আনোয়ারুল মনজিল সন্যাসীভিটা কেন্দ্রে কাজ করি । ডা নাদিরুজজামান খান আমার নানা নৌকার প্রার্থী।
নালিতাবাড়ী পৌরসভার জন্মের সাথে আমি জড়িত। তিনি প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়ে আমাকে চায়ের নিমন্ত্রন করলেন। আমি তার অফিসে হাজির হলাম। তিনি অভ্যর্থনা জানালেন। পৌরসভার উন্নয়নে অনেক আলোচনা হলো। আরেকদিন এম এ হাকাম হীরার সিডিএল লাইব্রেরিতে তিনি আসলেন। বললেন, পৌরসভার উন্নয়নে কর্মশালা করবেন। সেখানে আমার, মনজুরুল আহসান বুলবুল, আরো অনেকের অংশগ্রহণ পরামর্শ চান। একজন মেয়রের এই যে অংশগ্রহণমূলক চিন্তা এবং সবাইকে এক ছাতার নীচে আনার চেষ্টা নিঃসন্দেহে অসাধারণ।
আবদুর রেজ্জাক, নালিতাবাড়ী ন্যাপের সভাপতি ছিলেন।তিনি সম্ভবত ‘সুবর্ণ সম্ভার’ এ প্রকাশিত নিবন্ধে লেখেন যে ‘৬৯ গণঅভ্যুত্থানে কিছু তরুণ উদীয়মান নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। শহীদ ন ম নাজমুল আহসান, মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল এবং আবদুল হালিম উকিল।’ তারপরতো মহান মুক্তিযুদ্ধ।তিনজনই অংশ নেন ১১নং সেক্টরে। তবে উকিল ভাই দশম শ্রেণির ছাত্র। বয়স পনের বা ষোল। কী দুর্দান্ত সাহস।আগ্নেয়গিরির লাভার মতো তেজোদীপ্ত উজ্জল এক তারুণ্য।
কাটাখালির ব্রিজ ভাঙ্গার পর রাংগামাটিয়া বিলের যুদ্ধে শহীদ নাজমুল ভাইয়ের পাশেই ছিলেন। ‘জল জোছনায় নাজমুল’ লিখতে গিয়ে অনেকেরই সহযোগিতা পেয়েছি, তবু মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমান ভাই, আবদুল হালিম উকিল ভাই, সাংবাদিক বিপ্লব দে কেটুর প্রতি চির কৃতজ্ঞ। অনেক তথ্য উকিল ভাই দিয়েছেন, যাচাই করেছি। তিনি ছিলেন এক্ষেত্রে খুবই আন্তরিক। ৬ জুলাই ১৯৭১ এ কাটাখালি ব্রিজ ভেংগে শহীদ নাজমুল ভাইয়ের দল রাংগামাটিয়ার খাটুয়াপাড়া গ্রামে নৈমুদ্দিন হাজীর বাড়ীতে আশ্রয় নেন ভোর বেলা। ১০টা ১১টার দিকে কারা যেন নৌকা করে এদিকে আসছেন এ খবর পেয়ে নাজমুল ভাই দেখতে যাচ্ছেন। এ সময় উকিল ভাইকে ডাক দিলেন, আসো তো উকিল। তারপর পাকি ও রাজাকারদের ত্রিমুখী আক্রমণ। পূর্বদিকে রাংগামাটিয়া বিলে ঝাঁপ দিয়ে অগ্রসর হওয়ার জন্য নাজমুল ভাই নির্দেশ দিলেন।তারপর কাউন্টার ফায়ার। অকুতোভয় যোদ্ধা নাজমুল ভাই শহিদ হলেন, মোফাজ্জল এবং আলী হোসেন।উকিল ভাই নাজমুল ভাইয়ের কাছেই ছিলেন। আল্লাহ তাকে রক্ষা করলেন। ৪৯ বছরের বর্ধিত হায়াত দিলেন। তিনি নিজেও সে কথা বলতেন। আল্লাহ পাক তাকে তুলে নিলেন আবার ৫ জুলাই। তারপর জাতির পিতার হত্যার পর তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধা। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকায় তিনি। এ সময় তার বিখ্যাত উক্তি:

img-add

অস্ত্র জমা দিয়েছি, ট্রেনিং জমা দেইনি।

বহু তরুণকে তিনি রাজনীতি শিখিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও রাজনীতিতে তিনি তরুণদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। রাজনীতি ও এক ধরনের ইবাদত এ কথা বলার ও বিশ্বাস করার মানুষ কয়জন আছেন। তিনি ছিলেন। তিনি বহুবার বলেছেন, নালিতাবাড়ীতে তিনি সুস্থ ধারার রাজনীতি চান, শিক্ষা চান। মানুষের জন্য দরদ ও ভালবাসা ছিল সীমাহীন। মাটি ও মানুষের কাছাকাছি। বহুবার আমার অফিসে এসেছেন, ফোন করেছেন মারকাজ মসজিদের জন্য। কিছু সহায়তাও করা হয়েছে শুধু তার কারনেই। বহু সমস্যা দূর করার জন্য তিনি বলতেন।।

বিনয়ী, দরদী, ভালবাসার মানুষটিকে আমরা হারালাম। তিনি নেই। শারীরিকভাবে। শরীর মরে, রূহ মরে না। কাজ রয়ে যাবে ইতিহাসে। মানুষের ভালবাসায়, স্মৃতিতে।

আমাদের আশা ছিল তিনি ভাল হয়ে ফিরে আসবেন। তিনি আসলেন, তবে এ রকম করে কোনদিন আসেননি। তিনি যখন বেচে ছিলেন, এরকম দিনই আছে। আছে প্রভাত পাখীর গান। ভোগাইয়ের প্রবাহমান কলরব। বহুবার ভোগাই তিনি পার হয়েছেন। আজ ভোগাই উঠে এসে কোলে তুলে নিলো তার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে। আজ তার নতুন উদ্যম, অদম্য শক্তি এক বীরযোদ্ধাকে নিয়ে। ভোগাই বয়ে চলে নিরন্তর।পাহাড় সমুদ্র নদী অতিক্রান্ত এ বয়ে চলার শেষ নেই, হবেও না, হবেও না।

(শেরপুর জেলার কৃতি সন্তান, এসডিএফ’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ ফারুকের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া)

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» শেরপুরে অনলাইন নিউজপোর্টাল কালেরডাক২৪ডটকম’র উদ্বোধন করলেন হুইপ আতিক

» শেরপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন জেলা প্রশাসক

» নালিতাবাড়ীতে শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

» নালিতাবাড়ীতে বজ্রপাতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

» কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছেন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

» দোকান-শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ, ই-কমার্স সাইট ব্যবহারের আহ্বান

» দেশে করোনায় আরও ৩০ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫৬

» করোনাকালে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভে রেকর্ড

» ঝিনাইগাতীতে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

» শেরপুরে করোনা আক্রান্ত সহকর্মীর খোঁজ নিলেন পুলিশ সুপার আজীম

» নালিতাবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী কিশোর নিহত : আহত ২

» ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান নাইমের পিতার ইন্তেকাল

» সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় ২০ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

» মানুষ যেন উন্নত জীবন পায়, সেটাই সরকারের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

» স্মৃতির পাতায় আজও বহমান তুমি ॥ মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

  রাত ২:৩৮ | মঙ্গলবার | ৪ঠা আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আবদুল হালিম উকিল : পাহাড় সমুদ্র নদী সমর্পিত ঝর্ণা ধারা

উকিল ভাইয়ের সাথে কবে প্রথম পরিচয় বা প্রথম দেখা মনে করতে পারছি না। তবে নালিতাবাড়ীর মানুষ হিসেবে অনেক পূর্বেই দেখা হয়েছে, আলাপ হয়েছে এটাই স্বাভাবিক।
রাজনীতি, রাজপথ থেকে ফুটবলের মাঠ সর্বত্র তার প্রবল উপস্থিতি। সবাই তাকে সহজেই চিনেন। হাই স্কুলে পড়ার সময় আমারা একত্রিত হতাম দক্ষিণ রাণীগাঁও অধ্যাপক মোঃ আবুল কাশেম ভাইয়ের বাড়ীতে।সাত্তার,কাশেম ভাইয়ের ছোট ভাই আমার বন্ধু। আমি, আজাদ, হাফিজুর, মকিম, আফাজ, বুলু যেতাম সাত্তারের বাড়ীতে। রাত্রেও থাকতাম। কাশেম ভাই এর মূল উদ্যোক্তা। সিরিজ দাওয়াতে অংশ নিতে হতো। দুপুরে কাশেম ভাইয়ের বাড়ী,রাত্রে হাবিল দুলাভাইয়ের বাড়ী, পরে অধ্যাপক মকিমের বাড়ী, আফাজের বা ইসমাইলের বাড়ী। আবদুল হামিদ মুক্তা ভাই কাশেম ভাইয়ের বন্ধু, তিনিও অনেক সময় আসতেন।উকিল ভাইও আসতেন। তখনো উকিল ভাইয়ের সাথে দেখা হতো, কথা হতো।
১৯৭৬ সালে ঢাকা কলেজে ভর্তি জন্য আমি জহুরুল হক হলে কাশেম ভাইয়ের রুমে উঠি। একদিন উকিল ভাই নালিতাবাড়ী থেকে কাশেম ভাইয়ের রুমে হাজির হন। শপিং এ বের হবেন, আমাকে বললেন, চলো।আমিও সাথে গাউছিয়া, নিউমার্কেট ঘুরে হলে ফিরে আসলাম। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলে কামরুল ভাইয়ের রুমে, বদিউজজামান বাদশা ভাই এবং পরবর্তীতে আমি ও দৌলত বাসিন্দা। মাঝে-মধ্যে উকিল ভাই আসতেন।
৭৯ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার নির্দেশে আমি, আমার বন্ধু হরিলাল, আনোয়ারুল মনজিল সন্যাসীভিটা কেন্দ্রে কাজ করি । ডা নাদিরুজজামান খান আমার নানা নৌকার প্রার্থী।
নালিতাবাড়ী পৌরসভার জন্মের সাথে আমি জড়িত। তিনি প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়ে আমাকে চায়ের নিমন্ত্রন করলেন। আমি তার অফিসে হাজির হলাম। তিনি অভ্যর্থনা জানালেন। পৌরসভার উন্নয়নে অনেক আলোচনা হলো। আরেকদিন এম এ হাকাম হীরার সিডিএল লাইব্রেরিতে তিনি আসলেন। বললেন, পৌরসভার উন্নয়নে কর্মশালা করবেন। সেখানে আমার, মনজুরুল আহসান বুলবুল, আরো অনেকের অংশগ্রহণ পরামর্শ চান। একজন মেয়রের এই যে অংশগ্রহণমূলক চিন্তা এবং সবাইকে এক ছাতার নীচে আনার চেষ্টা নিঃসন্দেহে অসাধারণ।
আবদুর রেজ্জাক, নালিতাবাড়ী ন্যাপের সভাপতি ছিলেন।তিনি সম্ভবত ‘সুবর্ণ সম্ভার’ এ প্রকাশিত নিবন্ধে লেখেন যে ‘৬৯ গণঅভ্যুত্থানে কিছু তরুণ উদীয়মান নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। শহীদ ন ম নাজমুল আহসান, মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল এবং আবদুল হালিম উকিল।’ তারপরতো মহান মুক্তিযুদ্ধ।তিনজনই অংশ নেন ১১নং সেক্টরে। তবে উকিল ভাই দশম শ্রেণির ছাত্র। বয়স পনের বা ষোল। কী দুর্দান্ত সাহস।আগ্নেয়গিরির লাভার মতো তেজোদীপ্ত উজ্জল এক তারুণ্য।
কাটাখালির ব্রিজ ভাঙ্গার পর রাংগামাটিয়া বিলের যুদ্ধে শহীদ নাজমুল ভাইয়ের পাশেই ছিলেন। ‘জল জোছনায় নাজমুল’ লিখতে গিয়ে অনেকেরই সহযোগিতা পেয়েছি, তবু মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমান ভাই, আবদুল হালিম উকিল ভাই, সাংবাদিক বিপ্লব দে কেটুর প্রতি চির কৃতজ্ঞ। অনেক তথ্য উকিল ভাই দিয়েছেন, যাচাই করেছি। তিনি ছিলেন এক্ষেত্রে খুবই আন্তরিক। ৬ জুলাই ১৯৭১ এ কাটাখালি ব্রিজ ভেংগে শহীদ নাজমুল ভাইয়ের দল রাংগামাটিয়ার খাটুয়াপাড়া গ্রামে নৈমুদ্দিন হাজীর বাড়ীতে আশ্রয় নেন ভোর বেলা। ১০টা ১১টার দিকে কারা যেন নৌকা করে এদিকে আসছেন এ খবর পেয়ে নাজমুল ভাই দেখতে যাচ্ছেন। এ সময় উকিল ভাইকে ডাক দিলেন, আসো তো উকিল। তারপর পাকি ও রাজাকারদের ত্রিমুখী আক্রমণ। পূর্বদিকে রাংগামাটিয়া বিলে ঝাঁপ দিয়ে অগ্রসর হওয়ার জন্য নাজমুল ভাই নির্দেশ দিলেন।তারপর কাউন্টার ফায়ার। অকুতোভয় যোদ্ধা নাজমুল ভাই শহিদ হলেন, মোফাজ্জল এবং আলী হোসেন।উকিল ভাই নাজমুল ভাইয়ের কাছেই ছিলেন। আল্লাহ তাকে রক্ষা করলেন। ৪৯ বছরের বর্ধিত হায়াত দিলেন। তিনি নিজেও সে কথা বলতেন। আল্লাহ পাক তাকে তুলে নিলেন আবার ৫ জুলাই। তারপর জাতির পিতার হত্যার পর তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধা। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকায় তিনি। এ সময় তার বিখ্যাত উক্তি:

img-add

অস্ত্র জমা দিয়েছি, ট্রেনিং জমা দেইনি।

বহু তরুণকে তিনি রাজনীতি শিখিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও রাজনীতিতে তিনি তরুণদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। রাজনীতি ও এক ধরনের ইবাদত এ কথা বলার ও বিশ্বাস করার মানুষ কয়জন আছেন। তিনি ছিলেন। তিনি বহুবার বলেছেন, নালিতাবাড়ীতে তিনি সুস্থ ধারার রাজনীতি চান, শিক্ষা চান। মানুষের জন্য দরদ ও ভালবাসা ছিল সীমাহীন। মাটি ও মানুষের কাছাকাছি। বহুবার আমার অফিসে এসেছেন, ফোন করেছেন মারকাজ মসজিদের জন্য। কিছু সহায়তাও করা হয়েছে শুধু তার কারনেই। বহু সমস্যা দূর করার জন্য তিনি বলতেন।।

বিনয়ী, দরদী, ভালবাসার মানুষটিকে আমরা হারালাম। তিনি নেই। শারীরিকভাবে। শরীর মরে, রূহ মরে না। কাজ রয়ে যাবে ইতিহাসে। মানুষের ভালবাসায়, স্মৃতিতে।

আমাদের আশা ছিল তিনি ভাল হয়ে ফিরে আসবেন। তিনি আসলেন, তবে এ রকম করে কোনদিন আসেননি। তিনি যখন বেচে ছিলেন, এরকম দিনই আছে। আছে প্রভাত পাখীর গান। ভোগাইয়ের প্রবাহমান কলরব। বহুবার ভোগাই তিনি পার হয়েছেন। আজ ভোগাই উঠে এসে কোলে তুলে নিলো তার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে। আজ তার নতুন উদ্যম, অদম্য শক্তি এক বীরযোদ্ধাকে নিয়ে। ভোগাই বয়ে চলে নিরন্তর।পাহাড় সমুদ্র নদী অতিক্রান্ত এ বয়ে চলার শেষ নেই, হবেও না, হবেও না।

(শেরপুর জেলার কৃতি সন্তান, এসডিএফ’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ ফারুকের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া)

Print Friendly, PDF & Email
এ সংক্রান্ত আরও খবর

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । ওয়েবসাইট তৈরি করেছে- BD iT Zone

error: Content is protected !!