[bangla_time] | [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date]

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে গ্রন্থাগার : বিচারপতি ওবায়দুল হাসান

জ্ঞান-বিজ্ঞান

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের শহর বরানগরে অবস্থিত বনহুগলী লাইব্রেরির শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে একজন অতিথি হয়ে গিয়েছিলাম কলকাতায়। লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার কী, কীভাবে এর বিকাশ এবং বিশেষ করে এই উপমহাদেশে গ্রন্থাগারের প্রসার কী পথপরিক্রমায় হয়েছে, তাই তুলে ধরেছিলাম এই আলোচনায়। লাইব্রেরি হচ্ছে এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে বই, জার্নাল, পত্রপত্রিকাসহ গবেষক ও জ্ঞানপিপাসু পাঠকদের জন্য বিভিন্ন রকম তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ভারতবর্ষের সবচেয়ে পুরোনো লাইব্রেরি সরস্বতী মহল লাইব্রেরি। এটি তামিলনাড়ু রাজ্যের তানজোরে অবস্থিত। ঐতিহাসিকরা এই লাইব্রেরিকে এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে পুরোনো লাইব্রেরি হিসেবে গণ্য করেন। এই লাইব্রেরিতে তালের পাতা ও পুরোনো কাগজের ওপর তামিল ও সংস্কৃত ভাষায় লিখিত কিছু পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে।

ভারতের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব ইন্ডিয়া কলকাতায় অবস্থিত। এখানে ২০ থেকে ২২ লাখ বই সংরক্ষিত আছে বলে জানা যায়। ১৮৩৬ সালে ‘ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরি’ হিসেবে এর যাত্রা শুরু। ১৯০৩ সালে এই লাইব্রেরির নামকরণ করা হয় ‘ইমপেরিয়াল লাইব্রেরি’। ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩ থেকে এই লাইব্রেরিটি ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব ইন্ডিয়া নামে পরিচিতি লাভ করে। এটি ভারতের সর্বভাষার গ্রন্থসম্ভারে সমৃদ্ধ একটি লাইব্রেরি।

লাইব্রেরি বা পাঠাগার মানব চেতনা ও মননকে সমৃদ্ধ করার এমন একটি উৎসঘর, যেখানে বই, জার্নাল, পত্রপত্রিকা সংরক্ষিত থাকে জ্ঞানপিপাসু ও গবেষকদের জন্য। ইতিহাস-ঐতিহ্যের পথ ধরে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে অনন্য ভূমিকা রাখে লাইব্রেরি, যার উপকরণ শুধু বই আর বই। রেনেসাঁ বা নবজাগরণের মধ্য দিয়ে বিকশিত চেতনাকে মূর্ত করে তুলতে অবদান রেখেছে উভয় বাংলার শতবর্ষের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগারগুলো। কুসংস্কারকে দূরে সরিয়ে যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদকে সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ধারণ করে সভ্যতা, মানুষের চিন্তা-মননকে স্টম্ফুরিত ও জাগ্রত করেছে এই নবজাগরণ। একমাত্র গ্রন্থে মুদ্রিত তথ্য, গবেষণা, জ্ঞান, যুক্তি- এসবই এ জাগরণকে নব নবরূপে এগিয়ে নিয়েছে। এসব ধ্রুপদি বিদ্যাচর্চা মানুষের মনোজগতের ভাবনাচিন্তা ও যুক্তিকে বিশুদ্ধ হতে ও জেগে উঠতে প্রেরণা দেয়।

সাবেক আমলে রাজা, রাজপরিবারের সদস্যরা ও সল্ফ্ভ্রান্ত জনগোষ্ঠীই সাধারণত জানা ও শেখার জন্য লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার ব্যবহার করতেন। সাধারণ মানুষ সেখানে তাদের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে পিছিয়ে ছিল। কিন্তু সময় ও সামাজিক বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এবং মুদ্রণযন্ত্র, কাগজ-কালি-কলমের আবির্ভাব ও প্রসারের পথ ধরে একটা সময় সাধারণ মানুষেরও লাইব্রেরির সঙ্গে নৈকট্য সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশেও পুরোনো পাণ্ডুলিপি ও পুঁথি সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যায়। এসব পাণ্ডুলিপি সাধারণত লেখা হয়েছে হয় তালপাতায়, নয়তো গাছের ছাল অথবা চামড়া জাতীয় কোনো বস্তুর ওপর। পুরোনোকালে অনেক সময় পোড়ামাটির থালার ওপরেও লেখা হতো। এসব পাণ্ডুলিপি পুঁথি সাধারণত উপাসনালয়ে সংগৃহীত হতো। খ্রিষ্টপূর্ব তিন শতকের কিছু পুরোনো পাণ্ডুলিপি ও পুঁথি সম্প্রতি বাংলাদেশে পাওয়া গেছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- মধ্যযুগে হোসাইন শাহি বংশধররা প্রথম রাজকীয় লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন।

১৭৮০ সালে মিশনারির লোকজন হুগলী জেলার শ্রীরামপুরে প্রথম একটি লাইব্রেরি স্থাপন করেন, যেখানে মুদ্রিত বই ও পাণ্ডুলিপি রাখা ছিল। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা ও বেনারসে হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় মিশনারিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে কলা ও বিজ্ঞাননির্ভর লাইব্রেরি স্থাপিত হয় ১৮০৫ সালে। একই বছর এশিয়াটিক সোসাইটি কলকাতায় আরেকটি লাইব্রেরি স্থাপন করে।

ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৮৫৪ সালে অবিভক্ত বাংলার পূর্ববঙ্গ বর্তমান বাংলাদেশে চারটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেগুলো হলো- বগুড়া উডবার্ন লাইব্রেরি, রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি, যশোর ইনস্টিটিউট লাইব্রেরি ও বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরি। ১৮৭১ সালে ঢাকায় স্থাপিত হয় রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি। ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নর্থব্রুক হল লাইব্রেরি, ঢাকায়। সিরাজগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮২ সালে। রাজশাহীর সাধারণ গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৪ সালে। কুমিল্লা বীরচন্দ্র গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে। ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় অন্নদাগোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি। ১৮৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহীর শাহ মখদুম পাবলিক লাইব্রেরি। ১৮৯০ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বর্তমান বাংলাদেশ তদানীন্তন পূর্ববঙ্গে যে লাইব্রেরিগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়, সেগুলো হলো- নোয়াখালী টাউন হল ও পাবলিক লাইব্রেরি (১৮৯৬), উমেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি (১৮৯৬), প্রাইজ মেমোরিয়াল লাইব্রেরি, সিলেট (১৮৯৭), ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরি, নাটোর (১৯০১), চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটি পাবলিক লাইব্রেরি (১৯০৪), রামমোহন পাবলিক লাইব্রেরি (১৯০৬), হরেন্দ্রনাথ পাবলিক লাইব্রেরি (১৯০৮) প্রভৃতি।

প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সমাজ জীবনের সঙ্গেও লাইব্রেরির এক সেতুবন্ধ রয়েছে। এখনও লাইব্রেরি বা পাঠাগার জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য-সংস্কৃতি, ইতিহাস সংরক্ষণের এক জাদুঘর। পাঠাগার যেন মানব সমাজ ও সভ্যতার উত্থান-পতনের ছবিকেই প্রতিফলিত করে। এটি অন্তহীন জ্ঞান ও সভ্যতা বিকাশের আগার। বিবর্তিত মানব সভ্যতা ও জ্ঞান বিকাশের অক্ষয় সব কীর্তির প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাওয়া যায় শুধু গ্রন্থসম্ভারে। আর এই গ্রন্থসম্ভারে আলোকিত ঘরটিই গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লাইব্রেরি সম্পর্কে বলেছেন, ‘লাইব্রেরির মধ্যে আমরা সহস্র পথের চৌমাথার উপরে দাঁড়াইয়া আছি। কোনো পথ অনন্ত সমুদ্রে গিয়াছে, কোনো পথ অনন্ত শিখরে উঠিয়াছে, কোনো পথ মানব হৃদয়ের অতল স্পর্শে নামিয়াছে। যে যেদিকে ইচ্ছা ধাবমান হও, কোথাও বাধা পাইবে না। মানুষ আপনার পরিত্রাণকে এতটুকু জায়গার মধ্যে বাঁধাইয়া রাখিয়াছে।’

সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে আমি যখন স্কুলের ছাত্র তখন দেখেছি, আমাদের স্কুলে একটি ছোট লাইব্রেরি ছিল। তখনকার সময় প্রায় প্রতিটি স্কুল বা কলেজেই একটি লাইব্রেরি বা পাঠাগার থাকত। শিক্ষার্থীদের ওই পাঠাগার ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা হতো। কোনো শিক্ষকের অনুপস্থিতির কারণে কোনো ক্লাস না হলে ক্লাসের ওই সময়টুকু ছাত্ররা সাধারণত পাঠাগারেই কাটাত। জানি না, এ চর্চা আজ রয়েছে কি-না!

আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে নীলক্ষেত নামক স্থানটি পুরোনো বইয়ের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত। মূল বইয়ের জেরক্স কপিও পাওয়া যায় এখানে। নীলক্ষেত থেকে সস্তায় বই সংগ্রহ করে অতীতে অনেক ছাত্রই নিজ বাড়িতে ছোটখাটো পাঠাগার গড়ে তুলত। কিন্তু এখন আর সেই প্রবণতা দেখা যায় না। ঢাকার একজন সাংবাদিক একবার লিখছিলেন, ঢাকার বাইরের কিছু পাবলিক লাইব্রেরিতে গিয়ে তিনি একজন পাঠককেও দেখতে পাননি, যদিও সেগুলো সংগ্রহের দিক থেকে সমৃদ্ধ। আমার মনে হয়, ডিজিটাইজেশনের কারণে ভৌতিক অবকাঠামোর লাইব্রেরি বা পাঠাগার এখন আর অনেকেই অপরিহার্য মনে করেন না। তাই এই সাংবাদিক বন্ধু লাইব্রেরি হলগুলোকে পাঠকশূন্য অবস্থায় দেখতে পেয়েছেন। শুনেছি, ঢাকার ব্রিটিশ কাউন্সিল সরকারের সঙ্গে একত্র হয়ে ন্যাশনাল লাইব্রেরি ডেস্ক হিসেবে একটি দিবস পালন করার উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্দেশ্য, মানুষ যেন লাইব্রেরির প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে না ফেলে। এখন প্রশ্ন হলো, সাধারণ লাইব্রেরি বা পাঠাগারগুলো যদি ধীরে ধীরে পাঠকশূন্য হয়ে পড়ে, তাহলে ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি ডে’ পালন করে সত্যিই কি কিছু অর্জিত হবে? তারপরও আমরা এটি মনে করতেই পারি, সংস্কৃতির বিকাশের লক্ষ্যে গ্রন্থাগারের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টিতে এ ধরনের ‘জাতীয় লাইব্রেরি দিবস’ বা ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি ডে’ পালন করার প্রয়োজনীয়তা আছে বৈকি।

আমার বিশ্বাস, এমনকি বর্তমান ডিজিটাইজেশনের যুগে এখনও পুস্তকসম্ভারে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি বা পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পায়নি। আমাদের দেশে এখনও ৫০ শতাংশের বেশি মানুষের অবস্থান ইন্টারনেট প্রযুক্তির বাইরে। তাই মানুষ লাইব্রেরি নামের খেয়াঘাটে এখনও নিত্য নোঙর করে চলেছে তথ্য ও জ্ঞান আহরণের পিপাসায়। মনোজগতে বিশুদ্ধ চেতনা ধারণ করতে এখনও নিবিষ্ট হয় বইয়ের মুদ্রিত পাতায়। তাই পুস্তকসম্ভারে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের মতো বাতিঘরের এখনও অনেক প্রয়োজন সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং সৃজনশীল ভাবনায় নিজেকে ও সমাজ-সংস্কৃতিকে আলোকিত করার জন্য। গুটিকতক নির্ধারিত পাঠ্যবই পড়ে নম্বর পাওয়া যায়, একটা সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। কিন্তু জ্ঞানের পরিধি কি শুধু এতেই বিস্তৃত হয়?

না, হয় না। শেখা ও জানা একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার কোনো অন্ত নেই। নিজেকে যোগ্য করে সমাজে অবদান রাখতে, জ্ঞান-সমৃদ্ধ সৃজনশীল ধারণার মোড়কে চারপাশকে সাজাতে প্রয়োজন বই, বই আর শুধু বই। সে জন্যই সভ্যতা ও জ্ঞান বিকাশের সঙ্গে বইয়ের আগার লাইব্রেরির ভূমিকা অবিচ্ছেদ্য। সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক সেতুবন্ধ তৈরি করতে পারে একমাত্র লাইব্রেরি। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উপলব্ধি করেছি, শুধু বিধিবদ্ধ কিছু আইন জানাই যথেষ্ট নয়। নানা বিষয়ভিত্তিক বই হাতে নিতে হয়। সঠিক ও যৌক্তিক বিচারিক প্রতিকার প্রদান ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে বিবর্তিত এবং বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক, মানবিকতা, মনস্তত্ত্ব, সৃজনশীলতাও গভীরভাবে সম্পর্কিত। একজন বিচারকের মনোজগতে এসব বিষয়ে অনুসন্ধিৎসা থাকতেই হবে। বিচারক হিসেবে বিশ্বাস করি, এসব বিষয়ে ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং বিবর্তিত ও প্রতিষ্ঠিত নীতি অনুসন্ধান অনিবার্য।

আমরা বাংলাদেশের বাঙালিরা ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে একটি অসাম্প্রদায়িক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছি। আর এই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে আরও গভীর ও দৃঢ় করতে পাঠাগার বা লাইব্রেরির ভূমিকা অপরিসীম। সারাবিশ্বের মানুষে মানুষে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরির ভূমিকা হবে উজ্জ্বল ও উচ্চকিত। আমার বিশ্বাস, এ বাংলার প্রতিটি গ্রামে একদিন একটি গ্রন্থাগার গড়ে উঠবে এবং এই গ্রন্থাগার থেকে সংগৃহীত জ্ঞানের দ্যুতি দিয়েই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একদিন এ দেশকে সত্যিকারের সোনার বাংলায় পরিণত করতে পারবে।
লেখক : বিচারপতি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।

অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» ১০৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ

» দুর্ঘটনায় বরযাত্রীবাহী বাস, নিহত বেড়ে ১০

» শেরপুরে বাসচালকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার : জনমনে স্বস্তি

» শেরপুরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সম্মেলন ॥ সভাপতি দেবাশীষ, সম্পাদক কানু

» সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন চাই ॥ রানা দাস গুপ্ত

» শেরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বৃদ্ধা খুন

» গুজব বন্ধে বিধিমালা হচ্ছে : তথ্যমন্ত্রী

» মুন্সীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ বরযাত্রী নিহত

» ঘণ্টা বাজালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বর্ণের মুদ্রায় টস

» শেরপুরে জেলা প্রশাসনের আর্থিক সহায়তা পেল ৩ হতদরিদ্র শিক্ষার্থীসহ ৫ জন

» শেখ ফয়জুর রহমান’র কবিতাগুচ্ছ

» নালিতাবাড়ীতে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২ যুবক গ্রেফতার

» দিবা-রাত্রির টেষ্ট ম্যাচ : ‘পিঙ্ক সিটি’তে রুপ নিয়েছে কলকাতা

» যুবলীগের সম্মেলন ২৩ নবেম্বর

» অস্ট্রেলিয়ায় ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে দাবানল : ৩ রাজ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা

সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

কারিগরি সহযোগিতায় BD iT Zone

,

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে গ্রন্থাগার : বিচারপতি ওবায়দুল হাসান

জ্ঞান-বিজ্ঞান

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের শহর বরানগরে অবস্থিত বনহুগলী লাইব্রেরির শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে একজন অতিথি হয়ে গিয়েছিলাম কলকাতায়। লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার কী, কীভাবে এর বিকাশ এবং বিশেষ করে এই উপমহাদেশে গ্রন্থাগারের প্রসার কী পথপরিক্রমায় হয়েছে, তাই তুলে ধরেছিলাম এই আলোচনায়। লাইব্রেরি হচ্ছে এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে বই, জার্নাল, পত্রপত্রিকাসহ গবেষক ও জ্ঞানপিপাসু পাঠকদের জন্য বিভিন্ন রকম তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ভারতবর্ষের সবচেয়ে পুরোনো লাইব্রেরি সরস্বতী মহল লাইব্রেরি। এটি তামিলনাড়ু রাজ্যের তানজোরে অবস্থিত। ঐতিহাসিকরা এই লাইব্রেরিকে এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে পুরোনো লাইব্রেরি হিসেবে গণ্য করেন। এই লাইব্রেরিতে তালের পাতা ও পুরোনো কাগজের ওপর তামিল ও সংস্কৃত ভাষায় লিখিত কিছু পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে।

ভারতের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব ইন্ডিয়া কলকাতায় অবস্থিত। এখানে ২০ থেকে ২২ লাখ বই সংরক্ষিত আছে বলে জানা যায়। ১৮৩৬ সালে ‘ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরি’ হিসেবে এর যাত্রা শুরু। ১৯০৩ সালে এই লাইব্রেরির নামকরণ করা হয় ‘ইমপেরিয়াল লাইব্রেরি’। ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩ থেকে এই লাইব্রেরিটি ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব ইন্ডিয়া নামে পরিচিতি লাভ করে। এটি ভারতের সর্বভাষার গ্রন্থসম্ভারে সমৃদ্ধ একটি লাইব্রেরি।

লাইব্রেরি বা পাঠাগার মানব চেতনা ও মননকে সমৃদ্ধ করার এমন একটি উৎসঘর, যেখানে বই, জার্নাল, পত্রপত্রিকা সংরক্ষিত থাকে জ্ঞানপিপাসু ও গবেষকদের জন্য। ইতিহাস-ঐতিহ্যের পথ ধরে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে অনন্য ভূমিকা রাখে লাইব্রেরি, যার উপকরণ শুধু বই আর বই। রেনেসাঁ বা নবজাগরণের মধ্য দিয়ে বিকশিত চেতনাকে মূর্ত করে তুলতে অবদান রেখেছে উভয় বাংলার শতবর্ষের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগারগুলো। কুসংস্কারকে দূরে সরিয়ে যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদকে সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ধারণ করে সভ্যতা, মানুষের চিন্তা-মননকে স্টম্ফুরিত ও জাগ্রত করেছে এই নবজাগরণ। একমাত্র গ্রন্থে মুদ্রিত তথ্য, গবেষণা, জ্ঞান, যুক্তি- এসবই এ জাগরণকে নব নবরূপে এগিয়ে নিয়েছে। এসব ধ্রুপদি বিদ্যাচর্চা মানুষের মনোজগতের ভাবনাচিন্তা ও যুক্তিকে বিশুদ্ধ হতে ও জেগে উঠতে প্রেরণা দেয়।

সাবেক আমলে রাজা, রাজপরিবারের সদস্যরা ও সল্ফ্ভ্রান্ত জনগোষ্ঠীই সাধারণত জানা ও শেখার জন্য লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার ব্যবহার করতেন। সাধারণ মানুষ সেখানে তাদের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে পিছিয়ে ছিল। কিন্তু সময় ও সামাজিক বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এবং মুদ্রণযন্ত্র, কাগজ-কালি-কলমের আবির্ভাব ও প্রসারের পথ ধরে একটা সময় সাধারণ মানুষেরও লাইব্রেরির সঙ্গে নৈকট্য সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশেও পুরোনো পাণ্ডুলিপি ও পুঁথি সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যায়। এসব পাণ্ডুলিপি সাধারণত লেখা হয়েছে হয় তালপাতায়, নয়তো গাছের ছাল অথবা চামড়া জাতীয় কোনো বস্তুর ওপর। পুরোনোকালে অনেক সময় পোড়ামাটির থালার ওপরেও লেখা হতো। এসব পাণ্ডুলিপি পুঁথি সাধারণত উপাসনালয়ে সংগৃহীত হতো। খ্রিষ্টপূর্ব তিন শতকের কিছু পুরোনো পাণ্ডুলিপি ও পুঁথি সম্প্রতি বাংলাদেশে পাওয়া গেছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- মধ্যযুগে হোসাইন শাহি বংশধররা প্রথম রাজকীয় লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন।

১৭৮০ সালে মিশনারির লোকজন হুগলী জেলার শ্রীরামপুরে প্রথম একটি লাইব্রেরি স্থাপন করেন, যেখানে মুদ্রিত বই ও পাণ্ডুলিপি রাখা ছিল। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা ও বেনারসে হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় মিশনারিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে কলা ও বিজ্ঞাননির্ভর লাইব্রেরি স্থাপিত হয় ১৮০৫ সালে। একই বছর এশিয়াটিক সোসাইটি কলকাতায় আরেকটি লাইব্রেরি স্থাপন করে।

ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৮৫৪ সালে অবিভক্ত বাংলার পূর্ববঙ্গ বর্তমান বাংলাদেশে চারটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেগুলো হলো- বগুড়া উডবার্ন লাইব্রেরি, রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি, যশোর ইনস্টিটিউট লাইব্রেরি ও বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরি। ১৮৭১ সালে ঢাকায় স্থাপিত হয় রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি। ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নর্থব্রুক হল লাইব্রেরি, ঢাকায়। সিরাজগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮২ সালে। রাজশাহীর সাধারণ গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৪ সালে। কুমিল্লা বীরচন্দ্র গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে। ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় অন্নদাগোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি। ১৮৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহীর শাহ মখদুম পাবলিক লাইব্রেরি। ১৮৯০ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বর্তমান বাংলাদেশ তদানীন্তন পূর্ববঙ্গে যে লাইব্রেরিগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়, সেগুলো হলো- নোয়াখালী টাউন হল ও পাবলিক লাইব্রেরি (১৮৯৬), উমেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি (১৮৯৬), প্রাইজ মেমোরিয়াল লাইব্রেরি, সিলেট (১৮৯৭), ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরি, নাটোর (১৯০১), চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটি পাবলিক লাইব্রেরি (১৯০৪), রামমোহন পাবলিক লাইব্রেরি (১৯০৬), হরেন্দ্রনাথ পাবলিক লাইব্রেরি (১৯০৮) প্রভৃতি।

প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সমাজ জীবনের সঙ্গেও লাইব্রেরির এক সেতুবন্ধ রয়েছে। এখনও লাইব্রেরি বা পাঠাগার জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য-সংস্কৃতি, ইতিহাস সংরক্ষণের এক জাদুঘর। পাঠাগার যেন মানব সমাজ ও সভ্যতার উত্থান-পতনের ছবিকেই প্রতিফলিত করে। এটি অন্তহীন জ্ঞান ও সভ্যতা বিকাশের আগার। বিবর্তিত মানব সভ্যতা ও জ্ঞান বিকাশের অক্ষয় সব কীর্তির প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাওয়া যায় শুধু গ্রন্থসম্ভারে। আর এই গ্রন্থসম্ভারে আলোকিত ঘরটিই গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লাইব্রেরি সম্পর্কে বলেছেন, ‘লাইব্রেরির মধ্যে আমরা সহস্র পথের চৌমাথার উপরে দাঁড়াইয়া আছি। কোনো পথ অনন্ত সমুদ্রে গিয়াছে, কোনো পথ অনন্ত শিখরে উঠিয়াছে, কোনো পথ মানব হৃদয়ের অতল স্পর্শে নামিয়াছে। যে যেদিকে ইচ্ছা ধাবমান হও, কোথাও বাধা পাইবে না। মানুষ আপনার পরিত্রাণকে এতটুকু জায়গার মধ্যে বাঁধাইয়া রাখিয়াছে।’

সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে আমি যখন স্কুলের ছাত্র তখন দেখেছি, আমাদের স্কুলে একটি ছোট লাইব্রেরি ছিল। তখনকার সময় প্রায় প্রতিটি স্কুল বা কলেজেই একটি লাইব্রেরি বা পাঠাগার থাকত। শিক্ষার্থীদের ওই পাঠাগার ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা হতো। কোনো শিক্ষকের অনুপস্থিতির কারণে কোনো ক্লাস না হলে ক্লাসের ওই সময়টুকু ছাত্ররা সাধারণত পাঠাগারেই কাটাত। জানি না, এ চর্চা আজ রয়েছে কি-না!

আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে নীলক্ষেত নামক স্থানটি পুরোনো বইয়ের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত। মূল বইয়ের জেরক্স কপিও পাওয়া যায় এখানে। নীলক্ষেত থেকে সস্তায় বই সংগ্রহ করে অতীতে অনেক ছাত্রই নিজ বাড়িতে ছোটখাটো পাঠাগার গড়ে তুলত। কিন্তু এখন আর সেই প্রবণতা দেখা যায় না। ঢাকার একজন সাংবাদিক একবার লিখছিলেন, ঢাকার বাইরের কিছু পাবলিক লাইব্রেরিতে গিয়ে তিনি একজন পাঠককেও দেখতে পাননি, যদিও সেগুলো সংগ্রহের দিক থেকে সমৃদ্ধ। আমার মনে হয়, ডিজিটাইজেশনের কারণে ভৌতিক অবকাঠামোর লাইব্রেরি বা পাঠাগার এখন আর অনেকেই অপরিহার্য মনে করেন না। তাই এই সাংবাদিক বন্ধু লাইব্রেরি হলগুলোকে পাঠকশূন্য অবস্থায় দেখতে পেয়েছেন। শুনেছি, ঢাকার ব্রিটিশ কাউন্সিল সরকারের সঙ্গে একত্র হয়ে ন্যাশনাল লাইব্রেরি ডেস্ক হিসেবে একটি দিবস পালন করার উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্দেশ্য, মানুষ যেন লাইব্রেরির প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে না ফেলে। এখন প্রশ্ন হলো, সাধারণ লাইব্রেরি বা পাঠাগারগুলো যদি ধীরে ধীরে পাঠকশূন্য হয়ে পড়ে, তাহলে ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি ডে’ পালন করে সত্যিই কি কিছু অর্জিত হবে? তারপরও আমরা এটি মনে করতেই পারি, সংস্কৃতির বিকাশের লক্ষ্যে গ্রন্থাগারের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টিতে এ ধরনের ‘জাতীয় লাইব্রেরি দিবস’ বা ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি ডে’ পালন করার প্রয়োজনীয়তা আছে বৈকি।

আমার বিশ্বাস, এমনকি বর্তমান ডিজিটাইজেশনের যুগে এখনও পুস্তকসম্ভারে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি বা পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পায়নি। আমাদের দেশে এখনও ৫০ শতাংশের বেশি মানুষের অবস্থান ইন্টারনেট প্রযুক্তির বাইরে। তাই মানুষ লাইব্রেরি নামের খেয়াঘাটে এখনও নিত্য নোঙর করে চলেছে তথ্য ও জ্ঞান আহরণের পিপাসায়। মনোজগতে বিশুদ্ধ চেতনা ধারণ করতে এখনও নিবিষ্ট হয় বইয়ের মুদ্রিত পাতায়। তাই পুস্তকসম্ভারে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের মতো বাতিঘরের এখনও অনেক প্রয়োজন সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং সৃজনশীল ভাবনায় নিজেকে ও সমাজ-সংস্কৃতিকে আলোকিত করার জন্য। গুটিকতক নির্ধারিত পাঠ্যবই পড়ে নম্বর পাওয়া যায়, একটা সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। কিন্তু জ্ঞানের পরিধি কি শুধু এতেই বিস্তৃত হয়?

না, হয় না। শেখা ও জানা একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার কোনো অন্ত নেই। নিজেকে যোগ্য করে সমাজে অবদান রাখতে, জ্ঞান-সমৃদ্ধ সৃজনশীল ধারণার মোড়কে চারপাশকে সাজাতে প্রয়োজন বই, বই আর শুধু বই। সে জন্যই সভ্যতা ও জ্ঞান বিকাশের সঙ্গে বইয়ের আগার লাইব্রেরির ভূমিকা অবিচ্ছেদ্য। সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক সেতুবন্ধ তৈরি করতে পারে একমাত্র লাইব্রেরি। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উপলব্ধি করেছি, শুধু বিধিবদ্ধ কিছু আইন জানাই যথেষ্ট নয়। নানা বিষয়ভিত্তিক বই হাতে নিতে হয়। সঠিক ও যৌক্তিক বিচারিক প্রতিকার প্রদান ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে বিবর্তিত এবং বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক, মানবিকতা, মনস্তত্ত্ব, সৃজনশীলতাও গভীরভাবে সম্পর্কিত। একজন বিচারকের মনোজগতে এসব বিষয়ে অনুসন্ধিৎসা থাকতেই হবে। বিচারক হিসেবে বিশ্বাস করি, এসব বিষয়ে ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং বিবর্তিত ও প্রতিষ্ঠিত নীতি অনুসন্ধান অনিবার্য।

আমরা বাংলাদেশের বাঙালিরা ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে একটি অসাম্প্রদায়িক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছি। আর এই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে আরও গভীর ও দৃঢ় করতে পাঠাগার বা লাইব্রেরির ভূমিকা অপরিসীম। সারাবিশ্বের মানুষে মানুষে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরির ভূমিকা হবে উজ্জ্বল ও উচ্চকিত। আমার বিশ্বাস, এ বাংলার প্রতিটি গ্রামে একদিন একটি গ্রন্থাগার গড়ে উঠবে এবং এই গ্রন্থাগার থেকে সংগৃহীত জ্ঞানের দ্যুতি দিয়েই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একদিন এ দেশকে সত্যিকারের সোনার বাংলায় পরিণত করতে পারবে।
লেখক : বিচারপতি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।

সর্বশেষ খবর



অন্যান্য খবর



সম্পাদক-প্রকাশক : রফিকুল ইসলাম আধার
উপদেষ্টা সম্পাদক : সোলায়মান খাঁন মজনু
নির্বাহী সম্পাদক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১ : ফারহানা পারভীন মুন্নী
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : আলমগীর কিবরিয়া কামরুল
বার্তা সম্পাদক-১ : রেজাউল করিম বকুল
বার্তা সম্পাদক-২ : মোঃ ফরিদুজ্জামান।
যোগাযোগ : সম্পাদক : ০১৭২০০৭৯৪০৯
নির্বাহী সম্পাদক : ০১৯১২০৪৯৯৪৬
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-১: ০১৭১৬৪৬২২৫৫
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-২ : ০১৭১৪২৬১৩৫০
বার্তা সম্পাদক-১ : ০১৭১৩৫৬৪২২৫
বার্তা সম্পাদক -২ : ০১৯২১-৯৫৫৯০৬
বিজ্ঞাপন : ০১৭১২৮৫৩৩০৩
ইমেইল : shamolbangla2013@gmail.com.

কারিগরি সহযোগিতায় BD iT Zone

error: Content is protected !!