প্রকাশকাল: 8 মে, 2019

অভিনন্দন সাজেদা চৌধুরী : মোঃ শফি উদ্দিন

১৯৬৬ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের দুঃশাসনবিরোধী আওয়ামী লীগ ঘোষিত ৬ দফা আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন বঙ্গন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থায়ীভাবে আগমন ঘটে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর। স্বামী ভাষাসংগ্রামী গোলাম আকবর চৌধুরীসহ চার ছেলেমেয়ে নিয়ে ঢাকায় আগমনের পর রাজপথ কাঁপানো আন্দোলন-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়া সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
১৯৬৫ সালে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে প্রথম নারী নেত্রী হিসেবে সাজেদা চৌধুরীর তেজদীপ্ত বক্তব্য এখনও মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। নারী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করায় ১৯৬৯ সালে মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরের বছর ১৯৭০ সালে নির্বাচিত ৭ জন নারী এমএনএর মধ্যে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী অন্যতম। কলকাতার বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয় এবং প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। বিশেষ করে কলকাতায় ‘গোবরা নার্সিং ক্যাম্প’ স্থাপন করে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা প্রদানের কথা চিরস্মরণীয়। তিনি সেই ক্যাম্পের পরিচালক হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে স্বাধীনতা-উত্তর নারী পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত অসংখ্য মা-বোন যখন দিশেহারা, তখন বঙ্গবন্ধু নারী পুনর্বাসন বোর্ড গঠন করে তা পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ওপর। তৎপরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ গার্ল গাইডসের ন্যাশনাল কমিশনার নির্বাচিত হন তিনি। বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত আস্থাভাজন হওয়ায় বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে কাজ শুরু করেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৯৭৬ সালে দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিতে বাধ্য করেছিলেন তৎকালীন সরকারকে।
১৯৮১ সালে দলের জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করা এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সাজেদা চৌধুরী ও তার স্বামী গোলাম আকবর চৌধুরীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরবর্তী সময়ে দলের একাধিকবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, দলকে সুসংগঠিত করাসহ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার আস্থাভাজন নেতায় পরিণত হন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। দল ও দেশের জন্য অবদান রেখেই চলেছেন এই মহীয়সী নেত্রী। সর্বশেষ ২০০৭ সালে দেশের রাজনীতিতে চরম সংকটময় মুহূর্তে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বাদ দেওয়ার যে ষড়যন্ত্র ১/১১ সরকার করেছিল, তা দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করেন তিনি। ঘোষণা দেন- No Hasina, No Election|
। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর জননেত্রী শেখ হাসিনার মাতৃস্নেহের পরশে নবম সংসদে উপনেতা নির্বাচিত হন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। স্বাধীনতা পদকসহ অসংখ্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী টানা তৃতীয়বার নারী সংসদ উপনেতা হওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। এখনও কর্মচঞ্চল তিনি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রাণ, দুঃসময়ের কাণ্ডারি, সাতবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের ‘ফুফু’খ্যাত সভাপতিমণ্ডলীর সিনিয়র সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দেশ ও জনগণের সেবায় এখনও নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। একাদশ জাতীয় সংসদে নিয়মিত উপস্থিতি ছাড়াও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব সভায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পাশেই থাকেন তিনি। আজ ৮ মে, তার ৮৪তম জন্মদিন। শতায়ু হোন নেত্রী। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে থাকা বড় প্রয়োজন। অভিনন্দন শ্রদ্ধেয় নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপিকে।
লেখক : সংসদ উপনেতার সহকারী একান্ত সচিব।

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!