শেরপুর-ময়মনসিংহ নতুন আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণে প্রক্রিয়া শুরু

কমবে দূরত্ব, বাড়বে অর্থনৈতিক বিকাশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সমষ্টিক উন্নতির লক্ষ্যে শেরপুর-ময়মনসিংহ ৫২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে নতুন আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শেরপুর শহর প্রান্তের কানাশাখোলা থেকে ময়মনসিংহ রহমতপুর বাইপাস (ভায়া ভীমগঞ্জ-চন্দ্রকোনা-নারায়নখোলা-রামভদ্রপুর-পরাণগঞ্জ) পর্যন্ত ওই আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগটি নিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। সড়কটির বেশ কিছু অংশ ইতোপূর্বে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের থাকলেও ইতোমধ্যে ওই উদ্যোগের আওতায় তা সওজ বিভাগে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ওই নতুন সড়কটি নির্মিত হলে শেরপুরসহ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ের লাখ লাখ জনগোষ্ঠীর চলাচল সহজ ও গতিময় হওয়ার পাশাপাশি রাজধানী ও বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের সাথে শেরপুরের দূরত্ব কমবে ২০ কিলোমিটার। পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় ও দর্শনীয় স্থান গারো পাহাড়ের পাদদেশে পর্যটন সুবিধার আরও বিকাশ ঘটবে। এছাড়াও ঢাকা থেকে সবচেয়ে কম ২শ কিলোমিটার দূরত্বের ভারতীয় সীমান্তে ইমিগ্রেশনসহ নাকুগাঁও স্থলবন্দরের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সেতুবন্ধন তৈরী হবে। এতে দু’দেশের মাঝে বিভিন্ন পণ্য আমদানী-রপ্তানীসহ ব্রহ্মপুত্র পাড়ের চরাঞ্চলের উৎপাদিত শাক-সবজি ও কৃষকের উৎপাদিত পণ্যসমূহ প্রশস্ত সড়কে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিবহন সহজতর হবে। ফলে মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে।
জানা যায়, রাজধানী ও বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের সাথে সড়কপথে চলাচলে শেরপুর জেলাবাসীর প্রধান দুঃখ ও কষ্টের বিষয় হলো শম্ভুগঞ্জে রাস্তার উপর ময়লার ভাগাড়ের পঁচা দুর্বিসহ দুর্গন্ধ ও টোলপ্লাজায় যানজট। এখানে দীর্ঘসময় যানজটে আটকা পড়ে থাকতে হয়। এতে সময় ও অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি ওই সড়কপথে যাতায়াতকারী মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। শেরপুরবাসীর ওই দুঃখ-কষ্টের বিষয়টি ভেবেই নকলা ফাউন্ডেশনের তরফ থেকে সর্বপ্রথম শেরপুর শহর প্রান্তের কানাশাখোলা থেকে ময়মনসিংহ রহমতপুর বাইপাস (ভায়া ভীমগঞ্জ-চন্দ্রকোনা-নারায়নখোলা-রামভদ্রপুর-পরাণগঞ্জ) পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ওই সড়কটি নির্মাণের দাবি তোলা হয়। পরবর্তীতে গত ২২ জুন ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী (নেপ) অডিটরিয়ামে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বিআরটিসি ও বিআরটিএ ময়মনসিংহ অঞ্চলের কার্যক্রম সম্পর্কে এক গণশুনানী অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম শেরপুরবাসীর সড়কপথে চলাচলের দুর্ভোগ লাঘবে ওই সড়ক নির্মাণসহ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের উপর আরেকটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান। ওইসব দাবির প্রেক্ষিতেই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব, নকলার সন্তান নজরুল ইসলামের আন্তরিকতায় ওই অঞ্চলবাসীর দীর্ঘ লালিত স্বপ্নের ওই মহাসড়কটি নির্মাণে প্রক্রিয়া শুরু হয়। তারই আওতায় ওই সড়ক ও ব্রহ্মপুত্র নদের উপর ব্রিজ নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে তৎপরতা চলছে। সওজ বিভাগের তথ্যমতে, ওই তৎপরতার প্রেক্ষিতে শেরপুর-ময়মনসিংহের ৫২ কিলোমিটার ওই সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সওজ বিভাগে ন্যস্ত করার অনুরোধের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা করে সড়ক বিভাগে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া সওজে নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্র দেয়া হয়েছে।
কবি সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি ও নকলার চন্দ্রকোনা এলাকার অধিবাসী তালাত মাহমুদ বলেন, শেরপুর-শম্ভুগঞ্জ সড়কে যাতায়াতে শেরপুরবাসীর দুর্ভোগ নিরসনে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবি ছিলো দীর্ঘদিনের। শেরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের সেই সীমাহীন দুর্ভোগ দূরীকরণে শেরপুরের কানাশাখোলা-চন্দ্রকোণা-পরাণগঞ্জ-ময়মনসিংহ রহমতপুর ৫২ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগে আমরা আশান্বিত হয়েছি। এটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে চলমান গণতান্ত্রিক সরকারের আরও একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আর তাতে শেরপুরবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকবেন।
ময়মনসিংহ বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম শেরপুর-ময়মনসিংহ নতুন আঞ্চলিক ওই মহাসড়কটি মানসম্মতভাবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো শেরপুরের সাথে রাজধানী ও বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের যোগাযোগ সহজতর করা। আর ওই প্রস্তাবিত আঞ্চলিক মহাসড়কটি নির্মিত হলে আমাদের সেই দাবি পূরণের পাশাপাশি চরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবন-মানের পরিবর্তন ঘটবে।
শেরপুর-ময়মনসিংহ নতুন আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ প্রসঙ্গে শেরপুরের সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান উদ্দিন আহমেদ শনিবার দুপুরে জানান, প্রায় ৬ মাস যাবত ওই নতুন আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের বিষয়ে পরিকল্পনা চলছে। ইতোমধ্যে কোরবানীর ঈদের পর পরিকল্পনা বিভাগের এক সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। প্রস্তাবিত পথে এলজিইডির অংশসহ নদীর পাড় ও খালি জায়গা রয়েছে। ইতোমধ্যে এলজিইডির অংশ হস্তান্তর হওয়ায় পাড় ও খালি জায়গা পরিমাপ চলছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই এলজিইডির হস্তান্তরের বিষয়ে গেজেট প্রকাশিত হবে। এরপর রাস্তার ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রফর্মা (ডিপিপি) প্রণয়ন এবং পরবতীতে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রকল্পটি একনেকে পাস হলে বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে। আর সেটি হলে শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ থেকে বাসস্ট্যান্ড পথে নাকাল হয়ে নয়, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পার্ক ও খাগডহর হয়ে রহমতপুর বাইপাস দিয়ে সরাসরি ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কে যাতায়াত করতে পারবে শেরপুরবাসীসহ উত্তরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর একটি অংশ। সর্বোপরি সড়কটি নির্মিত হলে যোগাযোগ সহজীকরণ ছাড়াও ওই অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতির পাশাপাশি সার্বিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!