প্রকাশকাল: 5 সেপ্টেম্বর, 2019

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের ১০ মাসেও শেরপুরে চালু হয়নি ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল

নতুন ভবনে ত্রুটি ॥ চলছে সার্ভে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধন ঘোষণার দীর্ঘ ১০ মাসেও চালু হয়নি শেরপুরে নির্মিত ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতাল। নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত বিভাগ বলছে, ৫ মাস যাবত ভবনটি বুঝে নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে পুনঃপুন চিঠি দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, নবনির্মিত ওই ভবনে বেশ কিছু ত্রুটি ও সমস্যা রয়েছে। ওই বিষয়ে সার্ভে চলছে। এর আগে ভবনটি গ্রহণ করা যাচ্ছে না। আর ২ বিভাগের ওই ভিন্ন মতামতে হাসপাতালটি চালুকরণে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘসূত্রিতা। এতে জেলা পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান রোগীদের দুর্ভোগও বাড়ছে যেন পাল্লা দিয়ে।
জানা যায়, প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল শেরপুর ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হলেও জেলা সদর হাসপাতালটি ছিল ৫০ শয্যার। দীর্ঘদিন পর তা ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও রাজস্ব খাতে ছিল ৫০ শয্যাই। ওই অবস্থায় জেলার প্রায় ১৬ লাখ মানুষের উন্নত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরপর শহরের নারায়ণপুর এলাকায় জেলা সদর হাসপাতালের পাশে ১ একর ১০ শতাংশ জমির ওপর ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ তলা ভবনের প্রকল্প হাতে নেয় গণপূর্ত বিভাগ। ২০১৫ সালের ১২ নবেম্বর জেলা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সরকারদলীয় হুইপ আতিউর রহমান আতিক এমপি। দীর্ঘ প্রায় ৪ বছরের মাথায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ হলে ২০১৮ সালের ২ নবেম্বর ময়মনসিংহে বিভাগের অন্যান্য জেলার মতো ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালসহ শেরপুরের বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই বেড়ে যায় অবহেলিত শেরপুরবাসীর কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রত্যাশা। কারণ এখন পর্যন্ত ১০০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর প্রচ- চাপ। এখানে ১০০ বেডের বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী ভর্তি থাকে। ফলে অধিকাংশ রোগীকে অমানবিকভাবে বেড ছাড়া নিচে ফ্লোরে থাকতে হয়। কিন্তু সেই ঘোষণার দীর্ঘ ১০ মাসেও চালু হয়নি নতুন ভবনে জেলা সদর হাসপাতালের কার্যক্রম। স্বাস্থ্য বিভাগ ও গণপূর্ত বিভাগের অপ্রকাশিত মতবিরোধে ঝুলে আছে চালুকরণ প্রক্রিয়া।
এ বিষয়ে নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলা সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করে সম্প্রসারিত নতুন ভবনের কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভাগীয় শহর থেকে তা উদ্বোধন করেন। এটি জেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। কিন্তু উদ্বোধনের দীর্ঘ ১০ মাসেও তা চালু না হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। এটি যত দ্রুত চালু করা যায় ততোই শেরপুরবাসীর জন্য মঙ্গল। একই কথা জানিয়ে জেলা বিএমএ’র সভাপতি ডাঃ এমএ বারেক তোতা বলেন, বর্তমান সরকার মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এখন শেরপুরে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে মানুষের অধিকতর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কিন্তু ভবনে ত্রুটি বা সমস্যার কারণে যদি তার চালুকরণ থেমে থাকে, সেটা অনভিপ্রেত। তিনি মানুষের অধিকতর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার স্বার্থে দ্রুতই উদ্ভুত সমস্যা নিরসনের মাধ্যমে নতুন ভবনে কার্যক্রম চালুকরণের বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জেলা সদর হাসপাতাল সংলগ্ন সম্প্রসারিত দৃষ্টিনন্দন ওই নতুন ভবনে আইসিইউ ও সিসিইউসহ আধুনিক সব ধরনের চিকিৎসা সুযোগ-সুবিধা রাখা রয়েছে। ভবনটি হস্তান্তর করলেই জনগণ প্রকৃত সেবা ভোগ করতে পারবেন। তিনি আরও জানান, ভবনটি হস্তান্তর ও গ্রহণের জন্য গত এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত পুনঃপুন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সার্ভে শেষ না হওয়ার কথা বলে তারা ভবনটি এখনও গ্রহণ করছেন না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভবনের নকশা করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আমরা সেই নকশা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করেছি।
তবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সিভিল সার্জন ডাঃ রেজাউল করিম বলছেন, ভিন্ন কথা। তার মতে, নবনির্মিত ওই ভবনে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। সমস্যাগুলো হচ্ছে, ওই ভবনে কমন বাথরুম ছাড়া চিকিৎসকদের বসার রুমে কোন এটাচড বাথরুম নেই। ওয়ার্ডের রুমে কোন ওয়াশরুম নেই। এছাড়া অপারেশন থিয়েটারেও রয়েছে সমস্যা। যে কারণে ভবনের কাজের বিষয়ে জেলা সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সার্জন ডাঃ রবিউল করিমকে আহবায়ক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোহাম্মদ নাদিম হাসানকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্যের একটি সার্ভে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ওই সার্ভে বোর্ডের প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর ভবনটি গ্রহণ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার মতে, নতুন ভবনটি চালু হলে জনগণের স্বাস্থ্যসেবার নতুন দিগন্ত উন্মেচিত হবে। তারা স্বাচ্ছন্দ্যে সুন্দর পরিবেশে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব বলেন, সম্প্রসারিত নতুন ৮ তলা ভবনে ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতাল চালু না হওয়ার বিষয়ে ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমন্বয় সভায় কথা হয়েছে। সে প্রেক্ষিতে ওই সভায় উপস্থিত থাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক আগামী ১ মাসের মধ্যে তা চালুকরণে আশ্বস্ত করেছেন। কাজেই আমরা আশা করছি আগামী মাসেই তা চালু হওয়ার মাধ্যমে শেরপুরবাসীর কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার দ্বার উন্মোচিত হবে।

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!