প্রকাশকাল: 10 সেপ্টেম্বর, 2019

গ্রাম ভেঙে পুলিশ ব্যারাক বানাচ্ছে মিয়ানমার

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : মিয়ানমারে মুসলিম রোহিঙ্গাদের সব গ্রাম গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে পুলিশ ব্যারাক, সরকারি ভবন ও শরণার্থী ক্যাম্প নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে। স্যাটেলাইট চিত্র থেকে বিবিসি জানতে সমর্থ হয়েছে, কমপক্ষে চারটি রোহিঙ্গা গ্রামকে পুরোপুরি সরকারি অবকাঠামোতে রূপান্তর করা হয়েছে।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়ে আগস্টে আবারও ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের (শুদ্ধি অভিযান) ঘোষণা দেয় মিয়ানমার। রিগনভিত্তিক মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ইউরো এশিয়া রিভিউ ২০১৮ সালের মার্চের শুরুতে জানায়, ২০১৭ সালে শেষ থেকে মিয়ানমার সরকার ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কমপক্ষে ৪৫৫টি গ্রামের সব অবকাঠামো ও ফসলের ক্ষেত ধ্বংস করে দিয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে সরকারি অবকাঠামো নির্মাণের প্রমাণ উঠে এলো।
সীমান্ত সংলগ্ন অন্তত চারটি রোহিঙ্গা গ্রামকে সু চি সরকার পুরোপুরি নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে ‘বিবিসি নিউজে’র সংবাদ দাতা এরই মধ্যে বিষয়টি জানতে সমর্থ হয়েছেন। যদিও স্থানীয় কর্মকর্তারা এরই মধ্যে গণমাধ্যমটির এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিবিসির প্রতিবেদক জনাথন লিখেছেন, ‘সরকার আমাদের হলা পো কওং ট্রান্সজিট ক্যাম্পে নিয়ে গিয়েছিল। তাদের দাবি অনুযায়ী সেটি ছিল সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনকারী ২৫ হাজার রোহিঙ্গার অস্থায়ী নিবাস। ২০১৭ সালে সহিংসতার পর দুইটি গুঁড়িয়ে দেওয়া রোহিঙ্গা গ্রাম হও রি তু লার এবং থার জেই কোনে’র পাশে ওই ক্যাম্প নির্মাণ করা হয়েছে। কথা ছিল, স্থায়ী আবাসে যাওয়ার পূর্বে তারা দুই মাসের জন্য এখানে অবস্থান করবে। এক বছর আগে ক্যাম্পটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। সেটি এখন বেহাল দশায় রয়েছে। সেখানে সাধারণ টয়লেটগুলো ভেঙ্গে পড়েছে।’
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে থাকলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। উগ্র বৌদ্ধবাদকে ব্যবহার করে সেখানকার সেনাবাহিনী ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে স্থাপন করেছে সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাসের চিহ্ন। ছড়িয়েছে বিদ্বেষ। ৮২-তে প্রণীত নাগরিকত্ব আইনে পরিচয়হীনতার কাল শুরু হয় রোহিঙ্গাদের। এরপর কখনও মলিন হয়ে যাওয়া কোনও নিবন্ধনপত্র, কখনও নীলচে সবুজ রঙের রশিদ, কখনও ভোটার স্বীকৃতির হোয়াইট কার্ড, কখনও আবার ‘ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড’ কিংবা এনভিসি নামের রং-বেরঙের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষকে। ধাপে ধাপে মলিন হয়েছে তাদের পরিচয়। ক্রমশ তাদের রূপান্তরিত করা হয়েছে রাষ্ট্রহীন বেনাগরিকে। ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর একটি প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। তবে সেই থেকে এখন পর্যন্ত একজন মানুষেরও প্রত্যাবাসন করা হয়নি। গত মাসে নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।
ব্যাপক নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় পথ খোলা রেখেই সম্প্রতি এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বারস্থ হয় বাংলাদেশ।

আপনার মতামত দিন

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

error: Content is protected !!